এবার রাজপথে নামলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
এবার রাজপথে নামলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দেশজুড়ে চলমান সহিংস বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এবার রাজপথে নেমেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাজধানী তেহরানে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি সরাসরি উপস্থিত হন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থিদের উদ্যোগে একযোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এসব সমাবেশের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে তেহরানের সমাবেশে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে মিছিলরত মানুষের সঙ্গে হাঁটতে, জাতীয় পতাকা হাতে থাকা নাগরিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়।

এর আগে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ‘জাতীয় প্রতিরোধ মিছিলে’ অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। দুই সপ্তাহ ধরে চলমান প্রাণঘাতী সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতেই এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

সমাবেশে তিনি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অসন্তোষ নিরসনের অঙ্গীকার করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, তার সরকার জনগণের বক্তব্য শুনতে প্রস্তুত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘দাঙ্গাবাজ’ ও ‘সন্ত্রাসীরা’ যেন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

এর আগে টানা দুই সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দেশের দুর্বল অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার সরকার জনগণের কথা শুনবে এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

ওই সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান সরকারের লক্ষ্য হলেও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে হঠাৎ মুদ্রার মান পতনে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছে। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ হলেও পরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, জনগণের উদ্বেগ রয়েছে এবং সেগুলো সমাধানে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা উচিত। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিছু দাঙ্গাবাজ যেন পুরো সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাও সরকারের বড় দায়িত্ব।

আল জাজিরার মতে, ২০২২-২৩ সালে মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর পর যে আন্দোলন হয়েছিল, তার পর থেকে এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বা/মে২৪/ফা