নিউ ইয়র্কবাসীকে মহানবীর হিজরতের গল্প শোনালেন মেয়র জোহরান মামদানি

প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
নিউ ইয়র্কবাসীকে মহানবীর হিজরতের গল্প শোনালেন মেয়র জোহরান মামদানি

ডেস্ক রিপোর্টঃ

অভিবাসন প্রশ্নে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও আশ্রয়ের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরতে ইসলামি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করেছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হিজরতের ঘটনাকে সামনে আনেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক আন্তধর্মীয় প্রাতরাশ সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মেয়র মামদানি বলেন, ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যার ভিত্তিতেই রয়েছে অভিবাসনের গল্প। তার ভাষায়, তিনি ইসলামকে দেখেন ‘একটি অভিবাসন কাহিনির ওপর প্রতিষ্ঠিত ধর্ম’ হিসেবে।

তিনি বলেন, হিজরতের ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও একসময় নিপীড়নের শিকার হয়ে স্বদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং মক্কা থেকে মদিনায় আশ্রয় নেন। এই ইতিহাস মানবিকতা, সহানুভূতি ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় নিউ ইয়র্ক সিটিতে অভিবাসীদের সুরক্ষা জোরদারে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন মেয়র মামদানি। তিনি জানান, সিটি সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম সীমিত করতে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

মেয়রের ভাষায়, এই আদেশ অভিবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সামগ্রিক জননিরাপত্তা রক্ষায় সিটি প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। নতুন এই নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, বিচারিক ওয়ারেন্ট ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) নিউ ইয়র্ক সিটির কোনো সম্পত্তিতে প্রবেশ করতে পারবে না।

মামদানি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—অভিবাসন অবস্থান নির্বিশেষে নিউ ইয়র্কের সব বাসিন্দা যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে নগরীর বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারেন। কোনো বাসিন্দা যেন কেবল অভিবাসী পরিচয়ের কারণে শিশু যত্নসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবার জন্য আবেদন করতে ভয় না পান—সেই নিশ্চয়তা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বা/মে২৪/ফা