পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি সামরিক জোটে যোগ দিতে পারে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি সামরিক জোটে যোগ দিতে পারে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ একটি সম্ভাব্য নতুন সামরিক জোটে যোগ দিতে পারে—এমন আলোচনা ও জল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই জোটটি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে গঠিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে।

গত কয়েক মাসে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই সম্ভাব্য জোটের ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

জোটের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশের ওপর হামলাকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে—যা ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির অনুরূপ।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কও এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে। পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী। এর সঙ্গে সৌদি আরবের আর্থিক সক্ষমতা যুক্ত হলে একটি শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সামরিক কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তির আদলে একটি খসড়া চুক্তি প্রণয়নে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে। গত এক বছরে পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের ঢাকা সফরের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পাকিস্তান সফরে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যা ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া পাকিস্তান বাংলাদেশকে দ্রুত সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ সামরিক মহড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে এই জোটে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যোগদান নির্ভর করবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময়ে খসড়া চুক্তির কাজ অনেকদূর এগোলেও চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে নির্বাচিত সরকার।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় এই জোট বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। তবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

সূত্র: টাইমস অফ ইসলামাবাদ

বা/মে২৪/ফা