তীব্র তেল সংকটে ঝিনাইদহ; চরম ভোগান্তিতে সাধারণ কৃষক
মোঃ আসাদুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি :
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনসহ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে, সাধারণ কৃষক পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
চলমান বোরো মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে বিপদে পড়েছেন শতসহস্র কৃষক। অনিবার্য কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পগুলোতে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কৃষকদের দীর্ঘ লাইন ও চরম ভোগান্তি প্রতিনিয়ত হৃদয়বিদারক দৃশ্যপট তৈরি করছে। বিগত প্রায় এক মাস ধরে জেলার অধিকাংশ স্থানে এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঝিনাইদহ সদরসহ, হরিণাকুণ্ডু, শৈলকূপা, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায়, তেলের অপেক্ষায় ড্রাম ও গ্যালন নিয়ে শত-শত কৃষক লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত ডিজেল পাচ্ছেন না। আবার, নামমাত্র যারা পাচ্ছেন, তাদেরও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতে হচ্ছে।
তেল সংকট নিয়ে সাধারণ কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন,
"বর্তমানে বোরো মৌসুমের ভরা সময়ে ধান এবং রবি শস্যের সেচ কাজ চলমান। কৃষকরা এসময় পাট বীজ বপন করেন। ফলে, সেচ কার্য নিয়মিত চলমান রাখতে আমাদের প্রয়োজন পর্যাপ্ত ডিজেল। কিন্তু, পাম্প মালিকরা চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছেন না। অনেক কৃষক সেচ পাম্প চালাতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এরকম চলতে থাকলে আমরা আর চাষাবাদ করতে পারবো না।"
হরিণাকুণ্ডু এলাকার কৃষক রাসেল হোসাইন বলেন,
"ভোর পাঁচ টায় তেলের জন্য এসে, এখন দুপুর দুই টা বাজে। কিন্তু, এখনো সিরিয়াল পাইনি। জমিতে ধান পাকতে শুরু করেছে, এই সময়ে পানি দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পেলে সব শেষ হয়ে যাবে।"
তেল সংকট নিয়ে ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, ডিপো থেকে তেলের বরাদ্দ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম হওয়ায়, তারা হিমশিম খাচ্ছেন।
এদিকে, ঝিনাইদহ পাম্প মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধি বলেন, "আমরা প্রতিদিন যে পরিমাণ ডিমান্ড দিচ্ছি, তার অর্ধেকও পাচ্ছি না। ফলে, কৃষকদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। আমরা নিরুপায়।"
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ও ধান মাড়াইয়ের যন্ত্রপাতির জন্য বিপুল পরিমাণ ডিজেলের প্রয়োজন হয়। এই মুহূর্তে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। তীব্র তেল সংকট মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সেসময় তারা তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির জোর দাবি জানান।
অপরদিকে, জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে হুমকির মুখে থাকা কৃষি অর্থনীতি বাঁচাতে এবং কৃষকদের ভোগান্তি লাঘবে অতি দ্রুত পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহের কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন ঝিনাইদহের সচেতন মহল।









