কুড়িগ্রামের চারটি আসনে ১১ দলীয় জোটের জয়: বিএনপির ভরাডুবি : জামায়াতের তিনজন এবং এনসিপির একজনের বিজয়

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
কুড়িগ্রামের চারটি আসনে ১১ দলীয় জোটের জয়: বিএনপির ভরাডুবি : জামায়াতের তিনজন এবং এনসিপির একজনের বিজয়

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম -১ ( নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী) আসনে দাঁড়ি পাল্লা নিয়ে এক লক্ষ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুর রহমান রানা ধানের শীষ মার্কা নিয়ে পেয়েছেন এক লক্ষ ২৩ হাজার ২৫ ভোট। দাঁড়ি পাল্লা মার্কা ১৮ হাজার ৬৫ ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। 

এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ৪২৪, নারী ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। 

এ আসনে ভোট পড়েছে শতকরা ৬৪দশমিক ৪৩ ভাগ।  

বিএনপির গ্রুপিং আর অনৈক্য পরাজয়ের মুল কারণ হিসেবে দেখছে সাধারণ মানুষ। ভোটের পুর্ব থেকে মনোনয়ন নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্ব, প্রকাশ্য গ্রুপিংয়ের জের ধরে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন। নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির কমিটির নিস্ক্রিয়তা পরাজয়কে তরান্বিত করে। 

"কুড়িগ্রাম -২ আসন"

কুড়িগ্রাম -২ ( কুড়িগ্রাম, ফুলবাড়ী ও রাজারহাট) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির ড. আতিকুর রহমান ( আতিক মোজাহিদ) শাপলাকলি মার্কায় এক লক্ষ ৮০ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ধানের শীষ মার্কায় পেয়েছেন এক লক্ষ ৭১ হাজার ৪০৫ ভোট। শাপলা কলি মার্কা বিজয়ী হয়েছে ৯ হাজার ১২১ ভোটের ব্যবধানে।

এ আসেন মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৪ হাজার ৭৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯০, নারী ৩ লাখ ৪ হাজার ৮৪১ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন। ভোট পড়েছে শতকরা ৬৬.৭৪ ভাগ।

 নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিলো বেশী। দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং, মাঠে সাধারণ ভোটারদের ধরে রাখতে না পারা এবং সংখ্যালঘু ভোট বিভক্ত হয়ে যাওয়া পরাজয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এর পাশাপাশি নারী ভোটারদের কাছে পৌছাতে না পারায় ফলাফল বিপক্ষে গেছে। 

"কুড়িগ্রাম -৩ আসন"

কুড়িগ্রাম -৩( উলিপুর) আসেনে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী হয়েছেন ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী। তার প্রাপ্ত ভোট এক লক্ষ ৫ হাজার ৯৩০ টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তাসভীরুল ইসলাম ধানের শীষ মার্কা নিয়ে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫২ ভোট। দাঁড়ী পাল্লা মার্কা বিজয়ী হয় ২৬ হাজার ৫৭৮ ভোটের ব্যবধানে। হাতপাখার প্রাপ্ত ভোট ৩৩ হাজার ৫৭৮ আর লাঙ্গলের ২ হাজার ১১২ ভোট। এ আসনে 

ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪, নারী ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৬ জন। কাস্টিং ভোটের সংখ্যা শতকরা ৬১ দশমিক ৮৬ ভাগ।

সংগঠনের সাংগঠনিক দুর্বলতা, মনোনয়ন পাওয়ার আগে থেকে প্রাকাশ্য গ্রিপিং, মামলা-হামলায় ভোটাররা বিমুখ হয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতির কারণে বেশীরভাগ নারীদের পক্ষে রাখতে পারনি বিএনপি। 

"কুড়িগ্রাম-৪ আসন"

কুড়িগ্রাম -৪ ( চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (দাড়ি পাল্লা) এক লক্ষ ৮ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান (ধানের শীষ) ৮৪ হাজার ৪২৩ ভোট পেয়েছেন। দাড়ি পাল্লা মার্কা ২৩ হাজার ৭৮৭ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ মার্কার আপন বড় ভাই আজিজুর রহমানকে পরাজিত করেন।

বিজয়ী এবং পরাজিত প্রার্থী আপন দুই ভাই। বিজয়ী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নেতা কর্মী এবং সমর্থকদের ধৈর্য্য ও সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৩৮ জন এবং নারী ১ লাখ ৮১ হাজার ৪১১ জন। হিজরা ভোটার ৪জন। ভোট পড়েছে শতকরা ৬২ দশমিক ৩৪ ভাগ।

বিএনপির পরাজয়ের প্রধান কারণ একই পরিবারে জামায়াত বিএনপির দুই প্রার্থী। বড় ভাই বিএনপির প্রার্থী আর ছোট ভাই জামায়াতের প্রার্থী। জনগণ বিভ্রান্ত হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরে ঘোষিত হওয়ায় প্রায় দেড় বছর আগে থেকে মাঠে ময়দানে ভোটের কাজ করতে পেরছে। বিশেষ করে নারীদের কাছে ভোটের ওয়াদা নিতে পেরেছে। এ অঞ্চলের সহজ সরল মানুষ আগেই কথা দেয়ায় বরখেলাপ করেনি ভোটে। এছাড়া চিলমারী উপজেলা বিএনপি ভোটের শুরু থেকে ছিলো নিস্ক্রিয়। সাধারণ মানুষের কাছে পৌছাতে না পারা এবং ভোটের খরচ যোগাতে না পারায় পরাজয় নিশ্চিত হয়।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথ বেসরকারি ভাবে চারটি নির্বাচনী আসনের এ ফল ঘোষণা করেন।



বা/মে২৪/ম