স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়তে চায় এনসিপি, সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করাই লক্ষ্য

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়তে চায় এনসিপি, সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করাই লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে না গিয়ে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের নেতারা বলছেন, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে সংগঠনের তৃণমূলভিত্তিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। তবে এ সিদ্ধান্তের ফলে ভোট বিভাজনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তারা স্বীকার করেছেন।

দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সম্প্রতি দলীয় অবস্থান তুলে ধরে এসব কথা বলেন।

দলের আত্মপ্রকাশের এক বছর পর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসন লাভ করে তরুণ নেতৃত্বনির্ভর এনসিপি। নির্বাচনের পর থেকেই দলটি সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তৃত করতে নতুন কমিটি গঠন ও বিদ্যমান কমিটিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়নের কাজ চলছে।

সারজিস আলম বলেন, “নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম নির্বাচনের সময়ের চেয়েও বেশি গতিতে এগোচ্ছে। যেসব এলাকায় এখনো কমিটি গঠন হয়নি, সেখানে নতুন কমিটি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগে গঠিত কমিটিগুলোর কার্যক্রম ও কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হচ্ছে।”

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে দলটি বেশ কিছু ইতিবাচক দিক দেখছে। তার মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে সব স্তরে দলীয় কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সক্রিয় হবে।

“এককভাবে নির্বাচন করলে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে। প্রত্যেক এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা তৈরি হবে এবং কর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতির মানসিকতা গড়ে উঠবে,” বলেন তিনি।

তবে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, “ভোট বিভাজনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে জয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। এটি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।”

এদিকে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে কিংবা কী পদ্ধতিতে হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা না থাকায় কোনো রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি।

তিনি বলেন, “আমরা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে নির্বাচন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই জোট গঠন বা সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু হয়নি।”

দলীয় সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানের কথাও জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দলে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করলেও দল সব আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে না।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “অনেক প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু আমরা সচেতনভাবে অনেককে দলে নিইনি। কারণ এমন কেউ দলে এলে স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে আমরা সেই ঝুঁকি নিতে চাই না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এনসিপির জন্য সাংগঠনিকভাবে লাভজনক হতে পারে। তবে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূলে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। একই সঙ্গে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনে ভোট বিভাজনের বিষয়টি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপির সাংগঠনিক বিস্তার, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং তৃণমূলভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আগামী দিনে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান কতটা শক্তিশালী করতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক দলটির।