একজন চিরবিপ্লবী, চিরবিদ্রোহী যোগ্য পিতার উত্তরসূরি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
একজন চিরবিপ্লবী, চিরবিদ্রোহী যোগ্য পিতার উত্তরসূরি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

সূত্রঃ সংগৃহীত

খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি


জীবনের পুরোটা সময় রাষ্ট্রীয় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অন্যতম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন অলি আহাদ। অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবনে অন্তত ১৮ বার কারাবরণ করেছেন তিনি। জীবনের মূল্যবান সময়ের দীর্ঘ ১৮ বছর কেটেছে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে। তবুও কোনো অন্যায়ের কাছে আপস করেননি। ‘আপস’ যেন তার রাজনৈতিক অভিধানে কোনো শব্দই ছিল না।


বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ভাষাসৈনিক ও ভাষাবীর প্রয়াত অলি আহাদ। তিনি ছিলেন একজন চিরবিপ্লবী, চিরবিদ্রোহী রাজনীতিক। রাজনৈতিক জীবনে আপসের নজির ছিল খুবই কম। সব ধরনের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকার কারণে তিনি বারবার নিগৃহীত হয়েছেন।


শাসকদের দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ সবসময়ই ছিল সোচ্চার। বাক্‌স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে পরিচালিত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও এই অকুতোভয় জননায়ক আজীবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।


বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি নাম অলি আহাদ। তার নামের আগে কোনো বিশেষণ বা পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না—তার নামই যেন একটি রাজনৈতিক ইতিহাস।


সেই অলি আহাদেরই সুযোগ্য কন্যা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ ও প্রতিবাদী চেতনার উত্তরাধিকার ধারণ করে তিনি নিজের মেধা, যুক্তি ও বক্তব্যের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।


সংসদে তিনি যখন জ্বালাময়ী বক্তব্য উপস্থাপন করতেন, তখন অনেক সময় সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষ থেকেই তাকে থামানোর চেষ্টা হয়েছে। এমনকি স্পিকারকেও তার বক্তব্য নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে দেখা গেছে—যা তার বক্তব্যের তীব্রতা ও রাজনৈতিক প্রভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।


আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন রুমিন ফারহানা। তার বক্তব্য, যুক্তি ও তীক্ষ্ণ প্রশ্নে সংসদীয় রাজনীতিতে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ানদেরও কখনো কখনো তার বক্তব্যের জবাব দিতে হয়েছে।


মেধাবী, সুশিক্ষিত ও দৃঢ়চেতা এই রাজনীতিককে অনেকেই তার পিতা অলি আহাদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করেন। বাবার মতোই অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার মানসিকতা তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়।


অলি আহাদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার শুধু রক্তের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিবাদ, সাহস ও নীতির প্রতি অবিচল থাকার মধ্য দিয়েও সেই উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।


আগামী দিনের রাজনৈতিক পথচলায় তার জন্য রইল শুভকামনা।



এমকে/বিএম২৪