যশোর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য হাবিবুরের মার্কেট জবর দখল

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৫ এএম
যশোর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য হাবিবুরের মার্কেট জবর দখল

সূত্রঃ সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর


যশোর শহরের মুজিব সড়কে লিজ নেওয়া জমি ও সেখানে নির্মাণাধীন মার্কেট জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে নাজমুল কাদির জাহাঙ্গীর ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ও যশোর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য মো. হাবিবুর রহমান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


জানা গেছে, হাবিবুর রহমান যশোর শহরের মুজিব সড়কের সাবেক সোনালী ব্যাংক ভবন হিসেবে পরিচিত এলাকায় ৫৬ শতক জমি লিজ নেন। চুক্তি অনুযায়ী জমি, পুরোনো ভবন, পেছনের দোতলা বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি প্রথমে দুই বছর এবং পরবর্তী সময়ে আরও এক বছর শর্তসাপেক্ষে ভাড়া নেওয়ার কথা ছিল। সেখানে তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি দোকান নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেন।


অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ জুলাই দুপুরে সংস্কারকাজ চলার সময় খড়কির জাহাঙ্গীর হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে তারা দুর্ব্যবহার করেন এবং নির্মাণসামগ্রীর ক্ষতি করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে।


হাবিবুর রহমানের কর্মচারীকে গত ২৭ জুলাই মুঠোফোনে ওই এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয় এবং রুবেল নামে এক কর্মচারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।


স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমি ও নির্মাণাধীন মার্কেট পাহারা দিচ্ছেন। হাবিবুর রহমানের কেনা ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা মাসুদ, রূপম ও রনি নামে কয়েকজনকে সেখানে অবস্থান করতে দেখেছেন বলে জানান।


এদিকে, নাজমুল কাদির জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে জমি বিক্রির নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিন কোটি টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জমি বুঝিয়ে না দিয়ে দীর্ঘদিন ঘোরানোর পর ধীরে ধীরে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


আরও অভিযোগ রয়েছে, ঝিকরগাছা এলাকার কয়েকজনের কাছে জমি দেওয়ার কথা বলে প্রায় সাত কোটি টাকার আরেকটি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। এতে ভবিষ্যতে নতুন বিরোধের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত নাজমুল কাদির জাহাঙ্গীরের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।