নিখোঁজের ৬ দিন পর মিলল স্কুল ছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৭ এএম
নিখোঁজের ৬ দিন পর মিলল স্কুল ছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ

সোহরাব হোসেন,  সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া মাহির (১৪)অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক, আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 গত ৬ দিন আগে বিদ্যালয়ে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা এই কিশোরীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ,রোববার (২১ জুন) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর কবরস্থান সংলগ্ন নির্জন ঝোপের পাশ থেকে মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মারিয়া মাহি উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে এবং সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।


  স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ে টিফিন চলাকালিন একটি শ্রেণিকক্ষে ওই স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফের সঙ্গে মারিয়ার ঘনিষ্ঠ আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিষয়টি শনাক্ত করা হয় বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা গ্রহণ করেন এবং উভয়কে টিসি দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয় বলে জানা যায় ।

এ ঘটনার পর থেকে মারিয়ার কোনো খোঁজ মেলেনি বলে পরিবারের দাবি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে নিজের মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে বের হয়েছিল। দুই দিনেও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় নিহতের মা সিংগাইর থানায় একটি নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন।

  এর আগে ১৬ জুন ঘটনাটির সূত্র ধরে সিংগাইর থানার এএসআই ফারুক হোসেন ও আব্দুল জলিল সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালান বলে জানা গেছে।

অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার ৬ দিন পর রোববার বিকেলে চন্দননগর এলাকায় স্থানীয়রা ওই শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যাগসহ মরদেহ দেখতে পান । খবর পেয়ে সিংগাইর থানা- পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল কার্যক্রম সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।

 সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি গাড়িতে আছি। সিংগাইরে এসে কথা বলবো। 

এ প্রসঙ্গে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা এসআই মো.রেজাউল করিম জানান, মরদেহের একটি অংশ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল এবং বাকি অংশ নিচে পড়ে ছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী আলিফ, তার মা রুমা আক্তার (৩৫), বোন আয়েশা আক্তার (২১) এবং মামা রুবেলকে (৩৮) থানা হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত করেনি।

  এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট ছাড়া কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তবে এখনো মামলা হয়নি বলেও তিনি জানান। 


প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন মধ্যাহ্ন বিরতির সময় বিদ্যালয় ভবনের নিচতলায় অষ্টম শ্রেণির একটি কক্ষে দুই শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ আচরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি কয়েকদিন গোপন থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর তা প্রকাশ্যে আসে। পরে অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করা হয়।

 স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, ঘটনার পর প্রশাসনিক বা আইনি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।