কচুয়ায় সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের অনন্য নজির, খাল পুনঃখনন শেষে কোষাগারে ফেরত ৩৪ লাখ টাকা

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
কচুয়ায় সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের অনন্য নজির, খাল পুনঃখনন শেষে কোষাগারে ফেরত ৩৪ লাখ টাকা

প্রিন্স মন্ডল অলিফ,   বাগেরহাট  প্রতিনিধি:

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার দুটি খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে অব্যয়িত ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৯৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই গোপালপুর ও মঘিয়া ইউনিয়নে দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রকল্পের জন্য ৭৭ লাখ ৩৩ হাজার ১৪২ টাকা বরাদ্দ থাকলেও দক্ষ পরিকল্পনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিবিড় তদারকির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৩ টাকা। অবশিষ্ট অর্থ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসান সরকারি কোষাগারে জমা দেন।

প্রকল্পের আওতায় দড়িটানা থেকে বলেশ্বর নদী পর্যন্ত এক কিলোমিটার এবং মঘিয়া ইউনিয়নের কুন্ডু বাড়ি থেকে স্বপন মাঝির বাড়ি পর্যন্ত আরও এক কিলোমিটার কাঠালিয়া খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

এছাড়া খালের দুই তীরে ৮০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ, প্রয়োজনীয় স্থানে পাইপ কালভার্ট ও কাঠের সেতু নির্মাণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসাধারণের চলাচলের সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুদেব কৃষ্ণ জানান, ইউএনওর সার্বক্ষণিক তদারকি এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করায় কাজের মান অক্ষুণ্ণ রেখে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকদের মতে, এই প্রকল্প শুধু কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে না, বরং সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতারও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।