ডেঙ্গু ঠেকাতে ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ডেঙ্গু ঠেকাতে ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বা অক্টোবরের শুরুতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।


ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের মার্চ থেকে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও চলছে।


সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে গেলে ব্যবহারের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


এ ছাড়া ডেঙ্গু চিকিৎসায় সারা দেশের প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে মোট শয্যার ১০ শতাংশে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে বলা হয়েছে।


বিশেষ কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।


ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালের প্রস্তুতি জোরদার এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।


হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে ডেঙ্গু রোগী ও আশপাশের ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা দেশের সিভিল সার্জনদের সঙ্গে বৈঠক করে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন পর্যাপ্ত রয়েছে। ঘাটতি দেখা দিলে নিজস্ব বাজেট থেকে দ্রুত তা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।


ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. জাকারিয়া মাহমুদ জানান, হাসপাতালগুলোতে ইতোমধ্যে স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো ঘাটতি নেই।


ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে এবং স্কুল হেলথ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ১৩০ জন।


ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), আইইডিসিআর, এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি বিশেষ সেলও গঠন করা হয়েছে।