ঢাকা কলেজে রাজনৈতিক পরিচয়ে হল সিট বরাদ্দের অভিযোগ: শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, বিক্ষোভের ডাক

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
ঢাকা কলেজে রাজনৈতিক পরিচয়ে হল সিট বরাদ্দের অভিযোগ: শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, বিক্ষোভের ডাক


নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সিট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা কলেজের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আবাসিক ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশের পর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারাও এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, ভালো ফলাফল এবং ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চূড়ান্ত তালিকায় অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, মেধা ও আর্থিক অসচ্ছলতাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয়, বিশেষ করে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের (২০২৩-২৪ সেশন) শিক্ষার্থী শাহিন আলম অভিযোগ করে বলেন, "আমি ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রথম প্রকাশিত তালিকায় আমার নাম ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা বাদ দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একজনকে সিট দেওয়া হয়েছে, যে ভাইভাতেও অংশ নেয়নি। এমনকি ক্লাসে অনিয়মিত হওয়ায় ডিসকলেজিয়েট হওয়া একজনকেও রাজনৈতিক পরিচয়ে সিট দেওয়া হয়েছে।" মারুফ মিয়া নামের অপর এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, "আমার আর্থিক অবস্থা জানার পরও কেন সিট দিল না? এই অন্যায় করার আগে ডিপার্টমেন্টের প্রধানের বুক কেঁপে উঠল না?"

সিট বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রনেতারাও। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তাজবিউল হাসান কটাক্ষ করে ফেসবুকে লেখেন, "নিজেকে সেভাবে তৈরি কর যাতে করে রাতের আঁধারে সিট বরাদ্দের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে গোপনে বসে হলে সিট নিতে পারো।"

ঢাকা কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি প্রশাসনকে 'মেরুদণ্ডহীন' আখ্যা দিয়ে লেখেন, "নতুন করে সিট পাওয়া ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রদল করেন না—এমন একজন শিক্ষার্থী কি সিট পেয়েছেন? ছাত্রলীগের দাসত্বের অধ্যায় শেষ হতে না হতেই নির্লজ্জ এই প্রশাসন নতুন ছাত্রসংগঠনকে মনিব হিসেবে মেনে নিয়েছে।"

ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা প্রশ্ন তুলেছেন, "কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় কিংবা কোন মন্ত্রীর ফোন কলের রেফারেন্সে তালিকা থেকে মেধাবীদের নাম কাটতে বাধ্য হলেন? এই স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের জবাবদিহিতা প্রশাসনকে তৈরি রাখতে হবে।"

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, "আমাদের সিটের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় সবাইকে সিট দেওয়া সম্ভব হয়নি।" তবে নাম কেটে দেওয়ার বিষয়ে তিনি যোগ করেন, "এরকম যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে সেই সিটের বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।"

এদিকে, হলে সিট বরাদ্দে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।