মহানবীর (সা.) ভালোবাসা: মিছিলের প্রদর্শনীতে নাকি জীবনের অনুশীলনে?

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
মহানবীর (সা.) ভালোবাসা: মিছিলের প্রদর্শনীতে নাকি জীবনের অনুশীলনে?

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যেখানে ইবাদত এবং উৎসবের ভিত্তি কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১২ই রবিউল আউয়াল উপলক্ষে 'জসনে জুলুস' বা আনন্দ শোভাযাত্রার ব্যাপ্তি আমরা দেখতে পাই।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ প্রতিটি মুমিনের ঈমানের অঙ্গ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ কিভাবে হওয়া উচিত? শরিয়তের মূলনীতি ও বিশুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পালন না করাই শরীয়তসম্মত ও নিরাপদ পথ।

প্রথমত, ইসলামে ইবাদত ও ধর্মীয় উৎসবের মূল ভিত্তি হলো সুন্নাহর অনুসরণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ভাষায় দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" (সহীহ বুখারী: ২৬৯৭)। জসনে জুলুস বা নির্দিষ্ট দিনে মিছিল ও উৎসবের আয়োজন রাসূল (সা.)-এর জমানায় তো নয়ই, এমনকি তাঁর ওফাতের পর বহু শতাব্দী পর্যন্ত ইসলামী সংস্কৃতিতে ছিল না। দ্বীনের ইবাদতে নিজের পছন্দ বা যুক্তি যুক্ত করার সুযোগ নেই; যা রাসূল (সা.) শেখাননি, তা দ্বীনের অংশ হতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, রাসূল (সা.)-এর প্রতি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করেছেন সাহাবায়ে কেরাম (রা.)। চার খলিফা, তাবেয়ী এবং চার মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমামগণ বিশ্বনবীর প্রেমে আত্মনিবেদিত ছিলেন। অথচ তাঁদের কেউই কখনো রাসুল (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে जुलুস বা শোভাযাত্রা বের করেননি। সাহাবিদের চেয়ে বেশি নবীপ্রেমী হওয়ার দাবি কেউ করতে পারে না। তাঁদের এই না-করা বা বর্জন করাই প্রমাণ করে যে, এটি ধর্মীয় উৎসবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

তৃতীয়ত, ইসলামে ধর্মীয় উৎসবের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট। আবু দাউদ শরিফের হাদিস (হাদিস: ১১৩৪) অনুযায়ী, মদিনায় হিজরতের পর রাসূল (সা.) জাহেলী যুগের যাবতীয় উৎসব বন্ধ করে মুসলমানদের জন্য কেবল দুটি ধর্মীয় উৎসব নির্ধারণ করেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এই দুই ঈদের বাইরে অন্য কোনো দিনকে ‘ঈদ’ বা ধর্মীয় উৎসব হিসেবে সংযোজন করা শরিয়তের নির্ধারিত কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পরিশেষে বলতে চাই, মহানবী (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা প্রকাশের মূল উপায় হলো তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ, তাঁর রেখে যাওয়া চরিত্র গঠন এবং দৈনন্দিন জীবনে তাঁর শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানো। বছরে নির্দিষ্ট একদিনে মিছিল কিংবা বাহ্যিক প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ না থেকে, প্রতিটি পদক্ষেপে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ মেনে চলাই নবীপ্রেমের আসল পরিচয়। তাই সুন্নাহর বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে এবং সালাফদের অনুসৃত পথ অনুসরণে জসনে জুলুস বা এজাতীয় নতুন আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে চলাই শরীয়তের বিচারে উত্তম ও নিরাপদ বলেই মনে করি।

লেখক:

মোঃ জাহেরুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ