ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী নিয়ে বিএনপির কঠিন সমীকরণ

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী নিয়ে বিএনপির কঠিন সমীকরণ

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। নির্বাচন কমিশন এখনো ভোটের তারিখ ঘোষণা না করলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে নিজ নিজ উদ্যোগে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।


দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। তবে এখন পর্যন্ত কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, নিজস্ব ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


তরুণ নেতৃত্ব ও স্থানীয় সমীকরণে এগিয়ে ইশরাক


তিন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে ইশরাক হোসেনকে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে মনে করছেন বিএনপির নেতাদের একটি অংশ। ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ থাকলেও তিনি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২ ভোট পেয়েছিলেন।


বিএনপির নেতাদের মতে, ওই নির্বাচনে মাঠে সক্রিয় থাকার কারণে দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন এলাকায় ইশরাকের রাজনৈতিক পরিচিতি ও নিজস্ব ভোটারভিত্তি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পুরান ঢাকার স্থানীয় রাজনীতিতে তার পারিবারিক পরিচিতিও গুরুত্বপূর্ণ। তার বাবা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা।


ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্ত হলে সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে ভোটের মাঠে নামতেও প্রস্তুত। তার মতে, নগরকেন্দ্রিক রাজনীতি ও নাগরিক সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু।


প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় এগিয়ে আব্দুস সালাম


সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আব্দুস সালামের নামও জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি এর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ডিএসসিসির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবা কার্যক্রমে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।


আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি নিয়মিত কাজ করছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ওয়ার্ড চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও ডেপুটি মেয়র হিসেবে নগর পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন।


সাংগঠনিক শক্তিতে আলোচনায় সোহেল


তৃতীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত তার সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।


সোহেল জানিয়েছেন, দল যেভাবে দায়িত্ব দেবে, তিনি তা পালন করতে প্রস্তুত। তবে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত দল থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাননি।


জয় ধরে রাখতে প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্ক বিএনপি


বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঢাকা সিটি নির্বাচন দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। দক্ষিণ সিটিতে পুরান ঢাকা, নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ড এবং মধ্য ঢাকার ভোটারদের প্রত্যাশা ভিন্ন হওয়ায় প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


এদিকে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকার সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করায় বিএনপির ওপর প্রার্থী চূড়ান্ত করার চাপও বাড়ছে। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পর দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হবে।


অন্যদিকে, নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে। তৃণমূলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে আটটি বিশেষ সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়র ও কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিগত আমলনামা ও সার্বিক কর্মকাণ্ডও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।



এমকে/বিএম২৪