জাবিতে মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
জাবিতে মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

সূত্রঃ সংগৃহীত

জাবি প্রতিনিধি


পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অপরিকল্পিত উন্নয়নকাজ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ালি আল মাসুদের সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।


বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংগঠক সোমা ডুমরি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সুপরিকল্পিত ক্যাম্পাসে রূপ দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যেই আগের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ দ্রুত ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে।


তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, ফুটপাতসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এসব কাজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় করতে হবে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার জন্য কয়েক মাস অপেক্ষা না করে কেন তড়িঘড়ি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, সে বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।


বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কসবাদী) জাবি সংগঠক সজিব আহমেদ জেনিচ বলেন, পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের দাবিতে তারা দীর্ঘ সাত বছর ধরে আন্দোলন করছেন। বর্তমান ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পই শেষ নয়; আগামী কয়েক দশকের অবকাঠামোগত চাহিদা, আবাসন ও পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।


তিনি অভিযোগ করেন, সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এরই মধ্যে গাছ কাটা ও জলাধার ভরাটসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় সব উন্নয়নকাজ করার দাবি জানান তিনি।


সমাপনী বক্তব্যে জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা প্রশস্তকরণ, ফুটপাত ও সাইকেল লেন নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন। প্রশাসন এদিনের উদ্বোধনী কর্মসূচি স্থগিত করায় তিনি এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।


অদ্রি অংকুর আরও বলেন, মূল সড়কের একেবারে পাশে অপরিকল্পিতভাবে নতুন কলা ভবন নির্মাণের কারণে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সড়ক বন্ধ রাখতে হয়। তিনি এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।


এ ছাড়া টিএসসি সংলগ্ন পুকুর ভরাটের কারণে বর্ষাকালে ক্যাম্পাসে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, ক্যাম্পাসের জলাধার, গাছপালা ও সড়কব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। খণ্ডিত ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন এসব প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, প্রতিটি সড়ক নিয়ে পৃথক ও সামগ্রিক পরিবেশগত মূল্যায়ন (এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট) ছাড়া কোনো রাস্তা প্রশস্তকরণ বা ফুটপাত নির্মাণ করা যাবে না। পাশাপাশি আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের বিভাগীয় সম্প্রসারণ, আবাসন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং এর বাইরে কোনো খণ্ডিত উন্নয়নকাজ না করার দাবি জানান তারা।


মানববন্ধনে জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইশা মনি, প্রচার সম্পাদক আনিকা তাবাসসুম ফারাবী, সিয়াম মাহমুদসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এমকে/বিএম২৪