দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চান শিমুল, চিকিৎসায় প্রয়োজন ২ লাখ টাকা
ছবি: বিডি মেইল
| বিরল কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত ২৮ বছরের যুবক, অর্থাভাবে অনিশ্চিত জীবনরক্ষাকারী কেমোথেরাপি |
মো. আব্দুর রউফ, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
বয়স মাত্র ২৮ বছর। যে বয়সে সংসারের স্বপ্নগুলো আরও সুন্দর করে সাজানোর কথা, সেই বয়সেই ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন আশিক বিল্লাহ শিমুল। একদিকে নিজের অসুস্থতা, অন্যদিকে স্ট্রোকে আক্রান্ত বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও দুই অবুঝ সন্তানের ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছেন নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসদরের খামার নাচকৈড় মহল্লার এই যুবক। অর্থের অভাবে তাঁর পরবর্তী চিকিৎসা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
শিমুল চলনবিল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রয়াত সাংবাদিক আতহার হোসেনের ছোট ছেলে। পরিবারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কিন্তু ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর হারিয়েছেন সেই কর্মসংস্থানও। এখন অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাঁর পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে অস্ত্রোপচার, সামনে বড় চিকিৎসার চ্যালেঞ্জ
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে শিমুলের মলদারে টিউমার শনাক্ত হয়। পরে গত ৬ অক্টোবর রাজশাহীতে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী জেনারেল হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অসীম সরকারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে প্রতি তিন সপ্তাহ অন্তর তাঁকে সাত থেকে আটটি কেমোথেরাপি দিতে হবে। এ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় দুই লাখ টাকা। কেমোথেরাপি শেষ হলে তাঁকে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারও করাতে হবে।
কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না থাকায় পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। সময়মতো চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন শিমুলের পরিবার।
অসুস্থ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা
শিমুলের সংসারে রয়েছেন স্ট্রোকে আক্রান্ত বৃদ্ধ মা, স্ত্রী এবং দুই মেয়ে—এক বছর বয়সী ফিহা ও ১০ বছর বয়সী সিজা। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটির অসুস্থতায় পরিবারটি এখন চরম সংকটে পড়েছে।
গুরুদাসপুর পৌরশহরের চাঁচকৈড় বাজারে একটি প্রসাধনীর দোকানে স্বল্প বেতনে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন শিমুল। সেই সামান্য আয় দিয়েই চলত পরিবারের ভরণপোষণ। ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর কাজ হারিয়ে এখন উপার্জনহীন হয়ে পড়েছেন তিনি।
নিজস্ব কোনো জায়গাজমি নেই। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ইতোমধ্যে ধারদেনা করতে হয়েছে। একদিকে চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়—সবকিছু সামাল দিতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। বর্তমানে খাবার জোগাড় করাও তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
‘বৃদ্ধ মা ও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চাই’
নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে শিমুল বলেন, সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর স্বল্প আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলত বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানের জীবন। অসুস্থ হওয়ার পর সেই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। ধারদেনা করে এত দিন চিকিৎসা চালিয়েছেন। এখন চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা তো দূরের কথা, সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিমুলের আকুতি, বৃদ্ধ মা ও অবুঝ দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি বেঁচে থাকতে চান। আবারও সুস্থ হয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চান। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলছেন তিনি।
ভাইয়ের চিকিৎসায় সহযোগিতা চাইলেন সাংবাদিক আখলাকুজ্জামান
শিমুলের বড় ভাই সাংবাদিক আখলাকুজ্জামান জানান, তাঁর ছোট ভাই কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত। পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রায় দুই লাখ টাকা প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি শিমুলের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
চলনবিল প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আক্কাছ বলেন, অর্থের অভাবে একজন তরুণের জীবনপ্রদীপ নিভে যেতে পারে না। শিমুলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আপনার সামান্য সহযোগিতায় বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারেন শিমুল
শিমুলের প্রয়োজন এখন মানুষের সহমর্মিতা ও আর্থিক সহযোগিতা। কারও সামর্থ্য হয়তো পুরো চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো নয়, কিন্তু অনেকের ছোট ছোট সহযোগিতা একসঙ্গে তাঁর চিকিৎসার পথ খুলে দিতে পারে।
শিমুলের চিকিৎসায় সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা
- সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর: ৪৯০৬৪০১০২৬০০৯
- বিকাশ নম্বর: ০১৭৭৬৫৯৫৯৩৪
- প্রয়োজনীয় অর্থ: প্রায় ২ লাখ টাকা
আসুন, সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। হয়তো আপনার সামান্য সহায়তাই শিমুলের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অবলম্বন হবে। আবারও পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখবেন তিনি। বৃদ্ধ মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে এবং দুই সন্তানের মাথার ওপর বাবার ছায়া ধরে রাখতে এগিয়ে আসুন মানবিকতার টানে।
মানুষ মানুষের জন্য। শিমুলের পাশে দাঁড়ানো হোক আমাদের মানবিক দায়িত্ব।








