বগুড়ায় মৃত মোটর শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন
ছবি: বিডি মেইল
নাজিরুল ইসলাম, বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ায় মৃত মোটর শ্রমিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনটির শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে জেলার ২১৬ জন মৃত মোটর শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তার চেকের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারাও বিতরণ করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার ৩২টি শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান।
বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন পিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি আব্দুল হামিদ মিঠুল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাজাহানপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আকরাম আলী এবং বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সামছুজ্জামান সামছু। এ ছাড়া সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শাজাহানপুর উপজেলা মোটর শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সোবহান পুটুসহ স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের আওতায় জেলার মোট ২১৬ জন মৃত মোটর শ্রমিকের পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শাজাহানপুর উপজেলার ৩২টি পরিবারের সদস্যদের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। মৃত শ্রমিকের পরিবারের জন্য ৩০ হাজার ১ টাকা এবং তাঁদের মেয়ের বিয়ের জন্য ৬ হাজার ১ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সংগঠনটি ইতিমধ্যে বগুড়া মহানগর, শিবগঞ্জ, গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলায় মৃত মোটর শ্রমিকদের পরিবারের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করছে।
সহায়তা পাওয়া পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবারের একমাত্র বা প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানোর পর তাঁদের অনেককেই দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মৃত শ্রমিকদের পরিবারের কথা বিবেচনা করে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তাঁরা বলেন, পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষটি আজ বেঁচে নেই। তাঁর অনুপস্থিতিতে সংসারের ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন তাঁদের কথা মনে রেখে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সহায়তা পরিবারের আর্থিক সংকট কিছুটা হলেও লাঘব করবে।
আয়োজকেরা জানান, একজন মোটর শ্রমিক জীবদ্দশায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা অসহায় হয়ে পড়েন। বিশেষ করে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব পরিবারের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো এবং আর্থিক দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তাঁরা আরও জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি মৃত্যুর পর তাঁদের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোও শ্রমিক সংগঠনের অন্যতম দায়িত্ব। শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।
অন্যদিকে, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মৃত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে এ ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে সংগঠনের প্রতি আস্থা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।









