ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ছাত্রনেতা আবু তৈয়ব
সূত্রঃ সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন ছাত্রনেতা আবু তৈয়ব হাবিলদার। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিটির ফ্রেম ভেঙে তা ছিঁড়ে ফেলেন তিনি। এ সময় ছবিতে থুতু নিক্ষেপ করতেও দেখা যায় তাকে।
আবু তৈয়ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বয়স্ক প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ছবি ছেঁড়ার আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রপাতের সঙ্গে জিন্নাহর ভূমিকা রয়েছে। তিনি কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে এবং বাংলা হবে না বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার সিদ্ধান্ত মেনে নেননি।
তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু করেছিলেন এবং তার নেতৃত্বে হরতাল পালিত হয়। ওই আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হন। তার ভাষ্য, এমন একজন ব্যক্তির ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় রাখা উচিত নয়।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে ডাকসুর নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা করে ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে।’
ঘটনাটি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, ডাকসুতে ছবি ভাঙচুরের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ঘটনায় কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আইনগত পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডাকসু ভবনে বিতর্কিত ছবি লাগানোর কারণ ও উদ্দেশ্য এবং সেটি অপসারণের ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বৃহত্তর আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হবে।
প্রক্টর আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সক্ষমতা থাকলেই তারা ইচ্ছামতো সবকিছু করতে পারে—এমনটি গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্যক্রমে নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
ডাকসুর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়; এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অঙ্গ। তবে ডাকসুর কোনো কর্মকাণ্ড যদি প্রশাসনের বিকল্প হিসেবে পরিচালিত হওয়ার চেষ্টা করে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কোনো কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদনের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকলে ডাকসুকেও সেই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
তবে এ বিষয়ে ডাকসুর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এমকে/বিডিমেইল২৪









