পঞ্চগড়ে শরতের আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা, মুগ্ধ পর্যটকরা

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
পঞ্চগড়ে শরতের আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা, মুগ্ধ পর্যটকরা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


শরতের মেঘমুক্ত আকাশে আবারও দেখা মিলেছে হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। কখনো শুভ্র সাদা, আবার কখনো সূর্যের আলোয় সোনালি আভায় ধরা দিচ্ছে বরফে ঢাকা এই পর্বতশৃঙ্গ। সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের রূপ। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।


মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৬টা থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। তবে সবচেয়ে পরিষ্কার দৃশ্য মিলছে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পাশে মহানন্দা নদীর তীর থেকে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।


প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে আকাশ পরিষ্কার থাকলে পঞ্চগড় থেকে দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভোরের আলো ফুটতেই দূর দিগন্তে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। কেউ ক্যামেরায় ধারণ করছেন পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য, আবার কেউ মুঠোফোনে ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্ত।


কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা মুগ্ধ। তাঁদের কাছে এই ভ্রমণ শুধু পাহাড় দেখার অভিজ্ঞতা নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোরও সুযোগ।


ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটক শিহাব বলেন, “আমরা বন্ধুরা মিলে এখানে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা। আলহামদুলিল্লাহ, আকাশ পরিষ্কার থাকায় কাঙ্ক্ষিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেয়েছি। আমরা অনেক খুশি।”


নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি, অনেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, ভোরের দিকে আমরাও হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমে কিছুটা দেখা গেলেও পরে আবার মেঘ ও কুয়াশায় ঢেকে যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখা যায়।”


কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পাশাপাশি পর্যটকেরা ঘুরে দেখছেন মহানন্দা নদীর তীর, বিস্তীর্ণ চা-বাগান ও সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিভিন্ন স্থান। এতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়ছে।


তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় মঙ্গলবার এর সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসার আগে পর্যটকদের আকাশ ও আবহাওয়ার অবস্থা খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন তিনি।


পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, শীতের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা পঞ্চগড়ে বেড়াতে আসেন। তাঁদের অনেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতেও আসেন। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


এমকে/বিডিমেইল২৪