পটিয়ায় নাস্তা কম দেওয়ার অভিযোগে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, কারাগারে শাশুড়ি

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০২ এএম
পটিয়ায় নাস্তা কম দেওয়ার অভিযোগে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, কারাগারে শাশুড়ি

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি


চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে নাস্তা কম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সিফাতুর নূর সিফাত (২০) নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর শাশুড়িকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী ও দুই ননদের বিরুদ্ধেও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে।


রোববার (২৫ অক্টোবর) আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতের শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে (৬৫) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সিফাত পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা এলাকার ইলিয়াস খাঁ বাড়ির বাসিন্দা দুবাইপ্রবাসী মোহাম্মদ তারেকের স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি চন্দনাইশ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায়।


নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিফাতের মা জুহিনুর আক্তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের নাস্তা ও খাবার নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ কম হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে শাশুড়ি ও দুই ননদ সিফাতকে গালিগালাজ ও অপমান করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজনেরা।


প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিফাতের মা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ৪৫০টি পিঠা, ৪০টি পেয়ারা, এক কেজি বড় চিংড়ি মাছ, এক কেজি আপেল, আটটি ড্রাগন ফল, চার কেজি তেলাপিয়া মাছ ও তিন কেজি দুধ নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপরও নাস্তা কম হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।


হাসপাতালে ভর্তি, নয় দিন পর মৃত্যু


পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর সিফাত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ অক্টোবর দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।


নিহতের বাবা মোহাম্মদ নূর বাদী হয়ে পটিয়া থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সিফাতের স্বামী মোহাম্মদ তারেক, শাশুড়ি রিজিয়া বেগম এবং দুই ননদ সুমি আক্তার ও রাশেদা বেগমকে আসামি করা হয়েছে।


আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার পর শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার আগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলছিল।


ঘটনা নিয়ে সিফাতের স্বামী মোহাম্মদ তারেক দাবি করেছেন, তাঁদের পরিবারে বড় ধরনের কোনো বিরোধ ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিষয় নিয়ে অভিমান করে সিফাত আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরই তিনি এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েন।


পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানিয়েছেন, সিফাতের আত্মহত্যাচেষ্টার একটি ভিডিও পুলিশের হাতে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পুলিশের তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। মামলায় অভিযুক্ত হওয়া বা কারাগারে পাঠানোকে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখা উচিত নয়।