ববি ছাত্রদলের দুই নেতাকে ‘ডাকাত’ বলে বেধড়ক পিটুনি
সূত্রঃ সংগৃহীত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন এলাকায় নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে স্থানীয় একটি পরিবারের সদস্যরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তাদের উদ্ধারে গিয়ে ওই পরিবারের বাড়িতে পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও চরকাউয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য শিল্পী বেগমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত দুই ছাত্রদল নেতা হলেন—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পিয়াস আহমেদ রিফাত ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল মোল্যা। স্থানীয়দের মধ্যে ইউপি সদস্য শিল্পী বেগম, তাঁর ছেলে আরমান ও জামাতা রিয়াজ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ছাত্রদল নেতাদের ভাষ্য, রোববার রাতে পিয়াস আহমেদ রিফাত, আশরাফুল মোল্যা ও রায়হান বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় হাঁটছিলেন। এ সময় একটি বাড়ির কক্ষে দুই নারী ও এক যুবককে প্রবেশ করতে দেখে বিষয়টি তাঁদের সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তাঁরা ওই ব্যক্তিদের বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বপরিচিত রিয়াজ মোল্লা তাঁদের বাসার ভেতরে নিয়ে যান।
ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁদের কাছে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাঁরা এতে রাজি না হলে রিয়াজ ও আরমান তাঁদের ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করেন। পরে তাঁদের দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়।
সঙ্গে থাকা রায়হান ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের খবর দিলে কয়েকজন সেখানে গিয়ে পিয়াস ও আশরাফুলকে উদ্ধার করেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয় বলে উভয়পক্ষ জানিয়েছে।
আহত ছাত্রদল নেতা আশরাফুল মোল্যা বলেন, ‘আমাদের দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করা হয়। পরে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। রায়হান বের হয়ে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের খবর দিলে তাঁরা এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।’
তবে ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে মেয়েদের এনে তাঁদের বাড়িতে ঢোকান এবং পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতির চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়।
রহিম মিয়া আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার সময় তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর ও তছনছ চালান এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যান। তাঁর স্ত্রী ও জামাতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল হোসেন বলেন, রাতে চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে তিনি মারামারির ঘটনা দেখতে পান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে বাড়িঘরে লুটপাট চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর আরও দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে চাঁদা দাবি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা এসব টাকা দিতে নিষেধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনার সঙ্গে মাদকের অর্থসংক্রান্ত লেনদেনের বিষয় জড়িত থাকার গুঞ্জন থাকলেও উভয়পক্ষই তা অস্বীকার করেছে।
বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। আহত একজনকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় মামলা করেনি। মামলা হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








