সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে এগিয়ে এলেন না কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
সংগৃহীত
জেলা প্রতিনিধি
মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর (৮৭) দাফন সম্পন্ন হয়েছে মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর। স্থানীয়দের বাধার মুখে মরদেহ নিয়ে দিনভর টানাপোড়েনের পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে তাঁকে দাফন করা হয়।
শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন কার্যক্রম শেষ হয়।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে স্বজনরা স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে মরদেহের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ ও জেলা জামায়াতের নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানো হয়। এর আগেই মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে, বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরা কবর খোঁড়েন। পরে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।
মানিক পশারীর বোন জানান, টুঙ্গিপাড়া থেকে মরদেহ পিরোজপুরে আনার পর ঝামেলা হয়। পরিবারের সদস্যরা একবার কবর খুঁড়লেও লোকজন সেটি আবার ভরাট করে দেন। পরে তাঁরা আবার কবর খোঁড়েন। পুলিশ মরদেহ নিয়ে আসার পর পরিবারের সদস্যরাই দাফনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় স্বজনদের মধ্য থেকে কোনো পুরুষ সদস্যও এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর দাবি, জেলা জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশকে সহায়তা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি প্রথমে যশোরে এবং পরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
এমকে/বিএম২৪









