নুসরাত হত্যা মামলার হাইকোর্টের রায় আজ

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১১ এএম
নুসরাত হত্যা মামলার হাইকোর্টের রায় আজ

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স), আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায় আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।


বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেবেন। গত ২০ আগস্ট মামলাটির ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।


শুনানিতে আসামিদের পক্ষে অংশ নেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।


এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার পেপার বুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি গত ১০ জুন এই বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।


মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।


অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপ নেয়।


২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সিরাজ উদদৌলা, তৎকালীন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসাছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।


রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে ১৪০/১৯ নম্বরে নথিভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়ে এর পেপার বুক প্রস্তুত করা হয়। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।


আজকের হাইকোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন নুসরাতের পরিবারসহ সংশ্লিষ্টরা।




এমকে/বিএম২৪