নারী-পুরুষ সমতার বার্তা নিয়ে বাকৃবিতে তিনদিনব্যাপী প্রতিযোগিতার সমাপনী
সূত্রঃ সংগৃহীত
বাকৃবি প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীদের মধ্যে জেন্ডার সমতা, লিঙ্গভিত্তিক সচেতনতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) তিন দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মেইনস্ট্রিমিং জেন্ডার ইকুয়ালিটি ইন একাডেমিয়া’ (ম্যাজেন্ডা) প্রকল্পের আওতায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসের সভাকক্ষে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার নয় বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিতর্ক, স্টোরি টেলিং ও ফটোগ্রাফি—এই তিনটি বিভাগে মোট ৩৫ জন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি বিভাগ থেকে তিনজন করে বিজয়ী নির্বাচিত হন।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন সিদরাতুল মুনতাহা, আফসানা খান ও মোছা. নুসরাত জাহান নুসা। স্টোরি টেলিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন মো. শোয়েব আক্তার, মাহবুবুন্নাহার শারা ও আনিকা আরয়াম তানিয়া। আর ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন শ্রেয়াস পাল, আবিদ ইশতিয়া ও গোলাম কিবরিয়া।
কৃষি অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আর. এ. জুইসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম। প্রকল্পের প্রধান গবেষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং সমন্বয়ক হিসেবে ছিলেন কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসমত আরা বেগম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ড. রিফাত আরা জান্নাত তমা, সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এটি মূলত শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক একটি প্রোগ্রাম। এই স্টুডেন্ট অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম শুধু একটি নির্দিষ্ট অনুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এটি পরিচালিত হচ্ছে।’
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জেন্ডার বিষয়টির নানা মাত্রা রয়েছে। উন্নয়ন কিংবা গৃহস্থালি কাজের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা কেমন হবে, মূল বিষয়টি সেটিই। আমাদের প্রতিষ্ঠানে নারী সহকর্মীদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তারা ফলাফলের দিক থেকেও ভালো করছেন।’
তিনি বলেন, ‘নারী সহকর্মীদের সংখ্যা যখন বাড়ছে, তখন পুরুষ সহকর্মীদের মতো সমপরিমাণ সময় ও সেবা তাদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত। কর্মক্ষেত্রে সেই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি, যেন সুযোগ দেওয়ার কারণে কারও মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই চর্চা ও জ্ঞানগুলো যেন নথিবদ্ধ হয়। ভবিষ্যতে যে পেশাতেই যুক্ত হও—শিক্ষকতা, ব্যবসা কিংবা সরকারি চাকরি—এই অনুপ্রেরণা ধরে রাখলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও পরিপক্ব হবে এবং চলার পথে নতুন মাত্রা যোগ করবে।’
এমকে/বিএম২৪








