খোলাডাঙ্গায় বোমা হামলা: বিএনপি নেতা বাচ্চুসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
খোলাডাঙ্গায় বোমা হামলা: বিএনপি নেতা বাচ্চুসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন

সূত্রঃ ফাইল ছবি

মালিকুজ্জামান কাকা


যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গায় রুবির বাড়িতে বোমা হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আরবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাচ্চু মিয়া ওরফে ‘রড বাচ্চু’সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অমৃত দাস সম্প্রতি যশোরের আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


মামলার অন্য আসামিরা হলেন—বাচ্চু মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান, জাহিদ হাসান শাওন, তারেক হাসান অন্তর, হাসান কবির সাগর, মুজিদ ওরফে মুজিত মিয়া, সেলিম বিশ্বাস ওরফে কুটি, পারভেজ, সাব্বির হোসেন, রুবেল, জাফর আলী সিদ্দিক ওরফে জামাই, বিপ্লব হোসেন, রাকিব, আব্দুল আল মামুন ও সুমন ওরফে গান্ডু সুমন।


পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুবির স্বামী সলেমান গাজীর মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া একটি জমি তাঁর বোন হালিমা, নাসিমা ও হাসিনা দখলে রাখেন। ওই জমি দখলমুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট রুবির কাছ থেকে বাচ্চু মিয়া চার লাখ টাকা নেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা নেওয়ার ভিডিও ফুটেজ রুবির কাছে রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।


নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি দখলমুক্ত করে দিতে না পারায় রুবি টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়।


তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে বাচ্চু মিয়ার নেতৃত্বে ১৫ আসামি রুবির বাড়িতে যান। রুবি বাড়ির বাইরে না আসায় তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়িতে বোমা হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যরা অল্পের জন্য রক্ষা পান।


এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রুবির মামলায় প্রতিবেশী ইউনুস আলী সাক্ষী হওয়ায় তাঁর ছেলে ইয়াসিন ইসলাম অহিকে অপহরণ করে বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। সেখানে অহিকে বিদ্যুতের শক দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক অভিযোগ করা হয়েছে।


স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি এবং প্রভাব বিস্তারের জন্য বিভিন্ন সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত কোরবানির ঈদে এমন একটি ঘটনায় দুই শিশু আহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।


স্থানীয় বিএনপি সূত্রের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাচ্চু মিয়া রডমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরে তিনি রডের ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত হন। সে সময় তিনি আরবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্বে থাকলেও বড় ধরনের রাজনৈতিক মামলা বা হামলার শিকার হননি। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর প্রভাব বেড়ে যায় বলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ। ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুনতাজির রহমানের মৃত্যুর পর বাচ্চু ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান।


স্থানীয়দের অভিযোগ, বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে বোমাবাজি, মাদক ব্যবসায় প্রশ্রয়, চাঁদাবাজি, জমি কেনাবেচায় কমিশন নেওয়া এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। জমি বিক্রি কিংবা জমিসংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রেও তাঁকে কমিশন দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাচ্চু মিয়া বা তাঁর পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।