বোর্ড সচিব বাবার কারসাজিতে ছেলের ফল বদলে এ প্লাস
সূত্রঃ সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে নিজের ছেলের ফলাফল পরিবর্তন করে এ প্লাস পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এ ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
নগরীর পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম সফিউল আজম মুন্সী গত ১৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন। এতে বলা হয়, নিজের ছেলে যে বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছে, সেই বোর্ডের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নারায়ণ চন্দ্রনাথ সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জব্দ করা উত্তরপত্র ও নম্বরফর্দ পর্যালোচনা এবং তদন্তে নারায়ণ চন্দ্রনাথের ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খানের সহযোগিতায় তিনি ছেলে নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফল পরিবর্তনে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে প্রমাণ মিলেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ফলাফল জালিয়াতিতে সহযোগিতার বিনিময়ে অবসরকালীন ছুটিতে থাকা কিবরিয়া মাসুদ খানকে ২০২৪ সালের ফলাফল প্রস্তুতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেন নক্ষত্র দেবনাথ। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিতসহ কয়েকটি বিষয়ে তিনি কেবল পাস করার মতো নম্বর পেয়েছিলেন। পরে ওই ফলাফল পরিবর্তন করে তাকে এ প্লাস পাইয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিষয়টি সামনে আসার পর ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তের পর ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগে নারায়ণ চন্দ্রনাথকে ওএসডি করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
মামলার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।









