চবিতে নজরুলের ১২৭তম জয়ন্তী ও চট্টগ্রামে আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে সেমিনার
সূত্রঃ সংগৃহীত
আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী এবং কবির চট্টগ্রামে আগমনের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ফাহমিদা ফাহা ও উম্মে কুলসুমের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরী।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের তারুণ্যের কবি, বিদ্রোহের কবি, সাম্যের কবি, মানবতার কবি এবং দেশপ্রেমের কবি। কখনো তাঁর কবিতায় আমরা বিদ্রোহের চেতনা খুঁজে পাই, কখনো পাই অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতার বার্তা। আবার কখনো তাঁর গান ও কবিতা আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। তাই নজরুলকে কোনো একটি পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, নজরুলের দেশপ্রেম, সাম্য, মানবিকতা, সাহস ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে ধারণ করতে পারলে সমাজ আরও মানবিক ও সুন্দর হবে। সাম্প্রতিক গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের সময়ও নজরুলের গান ও কবিতা তরুণদের প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর রণসংগীত ও বিদ্রোহের চেতনা তরুণদের সাহসী করেছে।
উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, নজরুলের মধ্যে যেমন একজন বিদ্রোহী কবির আবির্ভাব দেখতে পাই, তেমনি সমাজে বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতার চেষ্টার বিরুদ্ধেও তিনি তাঁর লেখনী দিয়ে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন। তিনি ছিলেন স্বাধিকার আন্দোলনের এক মূর্ত প্রতীক। পৃথিবীর যেখানেই বাঙালি তার অধিকার ও স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেছে, সেখানেই বিদ্রোহী, দ্রোহ, ভালোবাসা ও প্রেমের কবি নজরুলের উপস্থিতি অনুভূত হয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড কালচারের ডিন অধ্যাপক ইরশাদ আহমেদ শাহীন। আলোচনা পর্বে অংশ নেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং চবি বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন কবি ও প্রাবন্ধিক হাফিজ রশিদ খান।
আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী তনুশ্রী দাস।
এমকে/বিএম২৪








