জাকসুর জব ফেয়ারে ৭০০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ
সূত্রঃ সংগৃহীত
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) আয়োজিত জব ফেয়ারে ২৫টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৭০০টির বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত এ জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসান।
জব ফেয়ারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল ব্র্যাক পরিচালিত ক্যারিয়ার হাব। প্লাটিনাম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল নিউজিল্যান্ড ডেইরি ও এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস। গোল্ড পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল ইংলিশ থেরাপি, আকিজ হেলথকেয়ার অ্যান্ড হাইজিন লিমিটেড, টেরাপ্রাইম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। সিলভার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, স্পার্ক রাইড টেকনোলজি লিমিটেড ও হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ ওয়াকফ বাংলাদেশ।
এবারের জব ফেয়ারে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ, আরএফএল গ্রুপ, ইফাদ গ্রুপ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, আইআইডিএফসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড, ডেটা সলিউশন ৩৬০ লিমিটেড ও রিদম ব্লাড সেন্টারসহ আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
ফার্মেসি বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিয়া বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ও যোগ্যতার মানদণ্ড সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। গ্র্যাজুয়েশন শেষে চাকরির জন্য আবেদন করার সময় কী ধরনের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে এখন থেকেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ থাকায় চাকরির বাজার সম্পর্কেও বাস্তব ধারণা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।
জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, “এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স এবং সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের করপোরেট খাতের সঙ্গে পরিচিত করা। জব ফেয়ারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানা এবং জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।”
জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জাকসুর নির্বাচিত সব সদস্য প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত তাঁদের চিন্তাভাবনা, মনোযোগ ও পরিশ্রম শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। তারই প্রতিফলন আজকের এই জব ফেয়ার ও ক্যারিয়ার সামিট। আমরা শিক্ষার্থীদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাব। আজকের জব ফেয়ার থেকে যদি কারও জীবনে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, সেটিই আমাদের জন্য বড় অর্জন।”
আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা অর্জন ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সময়ে প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রার্থীদের যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হওয়াও একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা।”
তিনি আরও বলেন, “এ কর্মসংস্থানমূলক আয়োজনের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, এ আয়োজনের মাধ্যমে তা কমবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।”
জানা যায়, জব ফেয়ারের মূল কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘রোড টু করপোরেট ক্যারিয়ার সেশন’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে করপোরেট খাতের অভিজ্ঞ বক্তারা ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, করপোরেট সংস্কৃতি, জীবনবৃত্তান্ত প্রস্তুত, সাক্ষাৎকারের দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার ও কফি, খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক আয়োজন এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়।
আয়োজনে গণমাধ্যম সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, স্টার নিউজ, চ্যানেল ওয়ান ও ফেস দ্য পিপল।
এমকে/বিএম২৪








