ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, নবজাতকের বাবা সেই মাদরাসা শিক্ষক

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, নবজাতকের বাবা সেই মাদরাসা শিক্ষক

সূত্রঃ সংগৃহীত

জেলা প্রতিনিধি


নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে।


সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল। তিনি জানান, প্রতিবেদন অনুযায়ী নবজাতকের জৈবিক বাবা আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর।


মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। অন্যদিকে তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।


গত ১৮ এপ্রিল অসুস্থতা ও শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে শিশুটিকে মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। পরে ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন।


৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাব আমান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত তার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।


শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।


এরপর নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।


সিআইডির পরীক্ষার প্রতিবেদনে নবজাতকের সঙ্গে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের জৈবিক পিতৃত্বের মিল পাওয়া যায়। সোমবার আদালতে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।


পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, মামলাটির বিচার আগামী ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।



এমকে/বিএম২৪