মক্কা জোটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে ইরান: রিপোর্ট
সূত্রঃ সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানকে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পার্লামেন্টের সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রধান মেহদি রহিমি। রোববার (২৩ আগস্ট) তাঁর বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিন।
ইরানকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে পাকিস্তানও। গত ১২ আগস্ট মস্কোয় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ফয়সাল নিয়াজ তিরমিজি বলেন, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে করা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরান ও মিশর যোগ দিলে পাকিস্তানের আপত্তি নেই।
পাকিস্তানি এই কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক জোট’ নয়। বরং এর উদ্দেশ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি কাঠামো গড়ে তোলা। শান্তি ও স্থিতিশীলতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণকেও স্বাগত জানানো হবে বলে জানান তিনি।
তুরস্কের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, চুক্তিটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে এটি করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও চাইলে এতে যোগ দিতে পারবে বলে জানান তিনি।
তবে ইরানের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান জোটে যোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
ইসরায়েল-মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কবিষয়ক গবেষক কেসনিয়া সভেতলোভারের মতে, ইরান যোগ দিলে জোটটির চরিত্রে মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে। এমন পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশ কীভাবে নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার ও সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে চুক্তির আওতায় দেশগুলোর নির্দিষ্ট সামরিক দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতির বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
*সূত্র: *আল মায়াদিন
এমকে/বিএম২৪








