বাংলাদেশ মেইলে সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেবীগঞ্জে শিক্ষার্থীরা পেল ধর্মশিক্ষা বই
সূত্রঃ ফাইল ছবি
সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত, পঞ্চগড় প্রতিনিধি
শিক্ষাবর্ষের প্রায় আট মাস অতিবাহিত হলেও হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই না পাওয়া পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের সেই শিক্ষার্থীরা অবশেষে হাতে পেল কাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবই। এ নিয়ে বাংলাদেশ মেইলে সংবাদ প্রকাশের মাত্র একদিনের মাথায় উপজেলা শিক্ষা অফিসের হস্তক্ষেপে বুধবার শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়।
জানা যায়, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেবীগঞ্জের সুন্দরদিঘী শিবেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ২৪ জন হিন্দু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ আট মাস ধরে বই না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেবীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসের ফুলবাড়ি ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল শাহজাদা বলেন, “সংবাদটি নজরে আসার পরই বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করি। এরপর উপজেলার অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সাথে যোগাযোগ করা হলে কয়েকটি বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত বইয়ের সন্ধান মেলে। সেখান থেকেই দ্রুত সংগ্রহ করে সুন্দরদিঘী শিবেরহাট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বইগুলো বিতরণ করা হয়েছে।”
দীর্ঘদিন পর নিজস্ব পাঠ্যবই হাতে পেয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, এতদিন সহপাঠীদের কাছ থেকে বই চেয়ে কিংবা তা ফটোকপি করে পড়ালেখা চালাতে হয়েছে, যা তাদের জন্য ছিল বেশ কষ্টদায়ক। নতুন বই পাওয়ায় এখন থেকে আরও মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবে বলে তারা জানায়।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণিতে মোট ৩১ জন হিন্দুধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী থাকলেও পাঠ্যবই পেয়েছিল মাত্র ৭ জন। ফলে বাকি ২৪ জন শিক্ষার্থীই দীর্ঘ আট মাস ধরে বই থেকে বঞ্চিত ছিল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে দেবীগঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পঞ্চম শ্রেণির ১,২৮২ জন হিন্দু শিক্ষার্থীর জন্য সমসংখ্যক বইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছিল এবং শিক্ষা অফিসের দাবি অনুযায়ী চাহিদামাফিক বই সরবরাহও করা হয়। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও একটি নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ে কেন এত বড় বই সংকট তৈরি হলো এবং তা সমাধানে আট মাস সময় কেন লাগল—তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে সচেতন মহলে।








