রাজশাহীর কেশরহাটে সার ডিলার নিয়োগে সন্তুষ্ট কৃষকরা, সরকারকে সাধুবাদ
ছবি: সংগৃহীত
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভায় নতুন সার ডিলার হিসেবে সোহাগ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক নিয়োগ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকদের একাংশ। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া সহজ হবে এবং সংকট কমবে—এমন প্রত্যাশা থেকে তাঁরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে কেশরহাট বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। স্থানীয় কৃষকদের আশা, তাঁর মাধ্যমে সার সংগ্রহের ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমবে এবং কৃষকেরা নির্ধারিত মূল্যে সার কিনতে পারবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওমর ফারুক পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও দীর্ঘদিন ধরে কেশরহাট বাজারের ব্যবসা ও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী বাচ্চু যুবদলের নেতা। সম্প্রতি তিনি কেশরহাট বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আরেক ভাই ওসমান আলী পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এর আগে কেশরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কেশরহাট বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরিবারের আরেক সদস্য আকবর আলী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের দাবি, অতীতে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাঁদের বিভিন্ন মামলা ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কেশরহাট বাজারে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়, এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, বাজারের ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষা এবং এলাকার মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে পরিবারটির সদস্যরা সহযোগিতা করে থাকেন। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন সার ডিলার নিয়োগের ফলে পৌর এলাকার কৃষকেরা সহজে সার সংগ্রহ করতে পারবেন।
কৃষক সমতুল্লাহ, শামসুল ও ছদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, ওমর ফারুকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সুসম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, নতুন ডিলার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারসংকট কমবে এবং সরকার নির্ধারিত দামে সার কেনার সুযোগ বাড়বে।
কৃষকদের ভাষ্য, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে কারও মতবিরোধ বা অসন্তোষ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়। তবে তাঁদের ধারণা, যাচাই-বাছাই করেই কর্তৃপক্ষ একজন যোগ্য ব্যক্তিকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার পৌঁছে দেওয়াই এখন স্থানীয় কৃষকদের প্রধান প্রত্যাশা।









