শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকতা কর্মশালা

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকতা কর্মশালা

সূত্রঃ সংগৃহীত

জবি প্রতিনিধি


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সাংবাদিকতা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।


কর্মশালায় সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, সংবাদ সংগ্রহ ও লেখার কৌশল, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, তথ্য যাচাই, সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা এবং গণমাধ্যমে কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।


কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের সিওও ও হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) ডেপুটি এডিটর আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান।


প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শফিক আহমেদ বলেন, সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি শেখার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সাংবাদিকতায় এগিয়ে যেতে হলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ভুল করতে করতে এবং শিখতে শিখতেই একজন সাংবাদিক অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন।


তিনি বলেন, বর্তমানে মিসইনফরমেশন, ডিজইনফরমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক সাংবাদিকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের জ্ঞান রাখতে হবে। যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই করা জরুরি।


শফিক আহমেদ আরও বলেন, সাংবাদিকদের শুধু ক্যাম্পাসের খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। অর্থনীতি, ব্যাংক, শেয়ারবাজার, রাজস্ব, যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা রাখতে হবে। একজন সাংবাদিক যত বেশি বিষয়ে জ্ঞান রাখবেন, তাঁর সাংবাদিকতা তত সমৃদ্ধ হবে।


সাংবাদিকতা ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যম নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতাবান কোনো ব্যক্তি অনাচার করলে সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করবেন। তবে মোবাইল হাতে নিয়ে কাউকে শুধু প্রশ্ন করলেই সাংবাদিকতা হয় না। সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো তথ্য, যুক্তি, অনুসন্ধান ও বস্তুনিষ্ঠতা।


তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে নিরপেক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার চর্চা করতে হবে। তাহলেই সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা ও সম্মান আরও বাড়বে।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনবির ডেপুটি এডিটর আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর বলেন, সাংবাদিকতায় আসার আগে প্রত্যেককে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে—আমি কেন সাংবাদিক হতে চাই? সাংবাদিকরা ক্ষমতাবান হলেও এই ক্ষমতার সঙ্গে বড় দায়িত্ব রয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে সাংবাদিকতার ক্ষমতা ব্যবহার করা হলে তা ক্ষমতার অপব্যবহারে পরিণত হয়।


তিনি বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের সেবা করা। জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতা করতে হলে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।


তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো কোনো ঘটনা যেভাবে ঘটেছে, তা কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়াই যথাযথ ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা। এ জন্য সাংবাদিকদের সংবাদ লেখার মৌলিক বিষয়গুলো জানতে হবে।


সংবাদ লেখার কৌশল তুলে ধরে আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর বলেন, একটি সংবাদে প্রথমেই ঘটনার মূল সারাংশ তুলে ধরতে হবে। সেই সারাংশ থেকেই ইন্ট্রো ও হেডলাইন তৈরি হয়। হার্ড নিউজ লেখার ক্ষেত্রে ইনভার্টেড পিরামিড কাঠামো অনুসরণ করে শুরুতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হয়।


দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় প্রশাসন, শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে জটিলতা তৈরি হয়। পাশাপাশি একটি তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে প্রকাশ করলে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সাহসের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।


কর্মশালায় সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব, সংবাদমূল্য নির্ধারণ, তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংবাদ লেখার কাঠামো এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আলোচকরা। দিনব্যাপী এ কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকতার বাস্তবধর্মী নানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।


এমকে/বিএম২৪