অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নতুন প্রতারক চক্র ইলিশ বাড়ি
সূত্রঃ সংগৃহীত
বিশেষ প্রতিবেদক
অনলাইনে ইলিশ মাছ ও ইলিশের ডিম বিক্রির নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আকর্ষণীয় অফার দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ‘ইলিশ বাড়ি’ নামের একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে। পাবনার বেড়া উপজেলার এক গ্রাহকের অভিযোগ, অর্ডার দেওয়ার পর নানা অজুহাতে কয়েক দফায় তার কাছ থেকে প্রায় ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো মাছ বা মাছের ডিম পাননি।
প্রতারিত ওই গ্রাহকের ভাষ্য, গত ৩-৪ দিন আগে ‘ইলিশ বাড়ি’ নামের ফেসবুক পেজে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে দুই কেজি ইলিশ মাছের ডিম অর্ডার করেন তিনি। পরে পেজটির পক্ষ থেকে অর্ডার কনফার্ম হয়েছে জানিয়ে তাকে একটি বার্তা পাঠানো হয়।
এরপর মাছের দাম, বরফ, বক্স ও ডেলিভারি চার্জ বাবদ ২৮০ টাকা পাঠাতে বলা হয়। এ জন্য ০১৩৫৪৯৯২৫৪২ নম্বরটি বিকাশ/নগদ নম্বর হিসেবে দেওয়া হয় বলে জানান ওই গ্রাহক।
টাকা পাঠানোর পর তার কাছে আরও একটি বার্তা আসে। সেখানে বলা হয়, তার পার্সেলটি ‘এআরবি রিটার্ন পলিসি’ ও ডিউ কোড পেমেন্ট সিস্টেমে রেডএক্স কুরিয়ারের ফ্রিজিং গাড়িতে পাঠানো হয়েছে। পণ্য গ্রাহকের এলাকায় পৌঁছানোর পর কন্ডিশন ক্লিয়ার করে গ্রহণ করতে বলা হয় এবং পণ্য পছন্দ না হলে ফেরত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানানো হয়।
গ্রাহকের অভিযোগ, এরপর একজন নিজেকে ডেলিভারি ম্যান পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ওটিপির কথা বলে প্রথমে একটি কোড চান। পরে ওটিপির সময় শেষ হয়ে গেছে জানিয়ে আবারও ওটিপি দেওয়ার কথা বলা হয়।
একপর্যায়ে ওই কথিত ডেলিভারি ম্যান আধা ঘণ্টার মধ্যে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে আরও ১ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। টাকা পাঠানোর পর ‘অর্ডার কনফার্ম’ করা ব্যক্তি তাকে জানান, ২০ টাকা কম পাঠানো হয়েছে। তাই অর্ডারটি অনুমোদন করা যাচ্ছে না। এ সময় আরও ১ হাজার ২০ টাকা পাঠাতে বলা হয় এবং আগের ১ হাজার টাকা ডেলিভারি ম্যান পার্সেল পৌঁছে দিলে ফেরত দেবেন বলে আশ্বস্ত করা হয়।
এরপর আবারও একটি ওটিপির কথা বলে গ্রাহকের কাছ থেকে ২ হাজার ২০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এভাবে কয়েক দফায় টাকা নেওয়ার পরও কোনো পার্সেল পৌঁছায়নি।
প্রতারিত গ্রাহক বলেন, পুরো বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি জানতে পারেন, কথিত ডেলিভারি ম্যান বা পার্সেল পাঠানোর বিষয়টি আদৌ বাস্তব নয়। মাছ ও ইলিশের ডিম বিক্রির আড়ালে প্রতারণার উদ্দেশ্যেই তাকে একের পর এক অর্থ পাঠাতে প্রলুব্ধ করা হয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই গ্রাহক বলেন, ‘আমি তো মাছের ডিম পাবো দূরের কথা, উল্টো আমার কষ্টার্জিত টাকা মেরে দিলো।’
ঘটনার পর ‘ইলিশ বাড়ি’ নামের ওই ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে আমিনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী।
অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা
এর আগে ‘ইলিশ বাড়ি চাঁদপুর অনলাইন শপ’, ‘চাঁদপুর ইলিশ বাজার’ ও ‘চাঁদপুর ইলিশ ঘাট’সহ বিভিন্ন নামে ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।
অভিযানে খুলনা, নড়াইল ও যশোর থেকে চক্রটির আট সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত ২৫টি মোবাইল ফোন এবং ৭০টি অবৈধ ও ভুয়া সিম জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইনে মাছ বা অন্যান্য পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অপরিচিত ফেসবুক পেজের আকর্ষণীয় অফারে প্রলুব্ধ হয়ে অগ্রিম টাকা পাঠানোর আগে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে অর্ডারের পর একের পর এক ওটিপি, অতিরিক্ত চার্জ বা দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ দেওয়া হলে বিষয়টি যাচাই না করে কোনো অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ রয়েছে।









