কলকাতায় নিহত ছয় বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে আজ
সূত্রঃ সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতের কলকাতায় হোটেল শিখা ইনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ ছয় বাংলাদেশির মরদেহ আজ শনিবার দেশে ফিরছে। পাঁচজনের মরদেহ যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এবং একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে।
বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরবে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং সাভারের আমিনবাজারের আহমেদ বাবুর মরদেহ। আর সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে।
শুক্রবার রাতে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শনিবার সকালে পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো কলকাতা থেকে পেট্রাপোল সীমান্তের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের চালক সাব্বির হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো কলকাতার পিস ওয়ার্ল্ডের হিমাগারে রাখা হয়েছিল।
এদিকে দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্য ও দাফন পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৃথক ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হবে। দেবাশীষ ও তাঁর ছেলে স্বর্ণশীষের সৎকার শনিবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ প্রথমে দেবাশীষের বাড়ির সামনে নেওয়া হবে। পরে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ায় আফসানার বাবার বাড়িতে নেওয়ার পর তাঁদের পৌর কবরস্থানে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর সময়ের ওপর দাফনের সময়সূচি নির্ভর করবে।
কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে পাঠানো হচ্ছে। কাগজপত্রের জটিলতার কারণে শুক্রবার মরদেহ পাঠানো সম্ভব না হলেও পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার সড়কপথে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার রেবতি সরকারের মরদেহ ভারতে থাকা এক আত্মীয়ের কাছে রেখে সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে দমবন্ধ হয়ে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয়সহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে শুক্রবার রাতে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চিকিৎসার জন্য চলতি মাসের ৩ তারিখ স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছোট ছেলে স্বর্ণশীষকে নিয়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন দেবাশীষ দত্ত। কয়েক দিন পর তাঁর শ্বশুর আকরাম হোসেনও সেখানে যান। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দী হয়ে ফিরছেন তাঁরা।
এমকে/বিএম২৪








