কালীগঞ্জে যুবককে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ
সূত্রঃ সংগৃহীত
মোঃ শাহনেওয়াজ;কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে সাহেদ হাসান লিওন নামে এক যুবককে মারধর, অপহরণের চেষ্টা এবং টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বক্তারপুর ইউনিয়নের উত্তর খৈকড়া এলাকার বাসিন্দা বেনজীর আহমেদের নাতি সাহেদ হাসান লিওন পেশায় গাড়িচালক। স্থানীয় সৃজন আকন্দ (২৫), মীর হোসেন (৩০), লিছান আকন্দ (২২) ও রাসেদ বাউল (৩৫)-এর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বক্তারপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাবুর বাড়ির সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে রশি দিয়ে হাত, পা ও কোমর বেঁধে রাস্তায় ফেলে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে সাহেদ হাসানের গলায় ধারালো ছুরি ধরে জোরপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিওতে তার কাছে মাদক পাওয়া গেছে—এমন স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনদের সহায়তায় আহত সাহেদ হাসানকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় সাহেদ হাসানের নানা বাদী হয়ে সৃজন আকন্দ, মীর হোসেন, লিছান আকন্দ ও রাসেদ বাউলসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সৃজন আকন্দ। তিনি দাবি করেন, কিছুদিন আগে তাকে মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মারধর করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, স্থানীয়রা সাহেদ হাসান লিওনকে মাদকসহ আটক করার পর তাকে মারধর করেছে।
অভিযুক্ত মীর হোসেন নিজেকে প্রবাসী দাবি করে সাহেদ হাসানকে মারধরের কথা স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, স্থানীয়রা লিওনের কাছে মাদক পাওয়ার পর তাকে আটক করে মারধর করেছে। টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এমকে/বিএম২৪









