গণপতি পরিবার হত্যা: আলামত নষ্টের অভিযোগে হাই কোর্টে রিট শুনানি মুলতবি
সূত্রঃ সংগৃহীত
আনোয়ারুল ইসলাম রনি,রংপুর ব্যুরো প্রধান
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিটের শুনানি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন হাই কোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী আজহার উল্লাহ ভূইয়া ও চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
জনস্বার্থে গত ৩০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী মোস্তফা কামাল ও শেখ গোলাম কিবরিয়া রিটটি দায়ের করেন।
রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সিআইডি প্রধান, পিবিআই মহাপরিচালক, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রংপুরের পুলিশ সুপার, কোতোয়ালি থানার ওসি এবং রংপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত মৌখিকভাবে বলেছেন, যেহেতু মামলাটি সিআইডি বা ডিবির কাছে গেছে, আদালতও বিষয়টি দেখছে এবং সুপারভিশনে থাকবে। তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে রিটটি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছে।’
গত ২২ আগস্ট রংপুর মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাচুয়াপাড়া বা দাসপাড়ার নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ আগস্ট পুলিশের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ২৭ আগস্টের বক্তব্যের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের স্থান ও ঘটনাক্রম নিয়ে পার্থক্য দেখা যায়। একই সঙ্গে অপরাধস্থল হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও সেখানে পানির পাম্প চালানোর অভিযোগ ওঠে।
রিটে আরও বলা হয়, পানির প্রবাহের কারণে ঘটনাস্থলে থাকা রক্ত, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, পায়ের ছাপসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আলামত ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা দূষিত হয়ে থাকতে পারে।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্বাধীন, নিরপেক্ষ, কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিবাদীরা ব্যর্থ হয়েছেন। ঘটনাস্থলের কোনো আলামত নষ্ট, পরিবর্তন, গোপন, সরিয়ে নেওয়া বা দূষিত হলে তা পরবর্তী ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে হাই কোর্টের সাবেক বা বর্তমান কোনো বিচারপতি অথবা উপযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কমিটিতে ফরেনসিক, চিকিৎসা, সাইবার ফরেনসিক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ রাখার আবেদনও করা হয়েছে।
এ ছাড়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থল সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা এবং সেখানে কোনো ধরনের পরিবর্তন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ধোয়া, মেরামত, অপসারণ কিংবা আলামত সরানোর মতো কার্যক্রম থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত রাখার অন্তর্বর্তী নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
এমকে/বিএম২৪









