বিজিবি ক্যাম্পে ঢুকে হুমকির অভিযোগ, লালমনিরহাটে বিএনপির ৪ নেতাসহ আটক ৬

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ এএম
বিজিবি ক্যাম্পে ঢুকে হুমকির অভিযোগ, লালমনিরহাটে বিএনপির ৪ নেতাসহ আটক ৬

সূত্রঃ বিডি মেইল

লালমনিরহাট প্রতিনিধি


লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, বিজিবি ক্যাম্পে জোরপূর্বক প্রবেশ, ধাক্কাধাক্কি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের চার নেতা রয়েছেন। অন্য দুজন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বাসিন্দা।


বুধবার গ্রেপ্তার ছয়জনকে লালমনিরহাট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (৫০), ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী (৫০), একই ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈম (২৮) ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মতি রহমান (৪০)। অন্য দুজন হলেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছোটখাতা গ্রামের শাহাদাত হোসেন (৪০) ও দুলাল মিয়া (৪৮)।


মামলার এজাহার ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) এর বাউরা ডাঙাটারী ক্যাম্পের একটি টহল দল বাউরা বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় দুটি অটোভ্যানে করে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বলে দাবি করা ড্রেজার মেশিন, পাইপ ও ড্রাম পরিবহন করা হচ্ছিল। বিজিবির টহল দল এসব সরঞ্জাম জব্দ করে কুচলিবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যায়।


জব্দের খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি জব্দ করা মালামালের মালিকানা দাবি করে মোটরসাইকেলে করে কুচলিবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগে বলা হয়, তাঁরা ক্যাম্পে জোরপূর্বক প্রবেশ করে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁরা বিজিবি সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেন।


বিজিবির দাবি, সরকারি স্থাপনা ও দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় আরও দুজনকে মামলায় আসামি করা হয়।


অভিযানের সময় একটি ছয় সিলিন্ডারের ডিজেলচালিত ড্রেজার মেশিন, চারটি খালি তেলের ড্রাম, ১০টি মোটা পাইপ, রিং পাইপ, দুটি অটোভ্যান, একটি মোটরসাইকেল ও সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। বিজিবির হিসাবে জব্দ করা মালামালের সিজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।


এ ঘটনায় বাউরা ডাঙাটারী বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার উত্তম চন্দ্র দাস বাদী হয়ে বুধবার সকালে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, স্বেচ্ছায় আঘাত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তিদের পাটগ্রাম থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিজিবির টহল দলের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাঁদের লালমনিরহাট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


তবে মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বা তাঁদের আইনজীবীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।