লং মার্চ দিয়ে বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী
সূত্রঃ বিডি মেইল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
সংকটময় এ সময়ে বিরোধী দলগুলোর আয়োজিত লং মার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে উসকানি না দিয়ে সংকট উত্তরণে সরকারের পাশে থাকা উচিত। লং মার্চ দিয়ে যদি সংকটের সমাধান হতো, তাহলে সরকারি দলই সবার আগে লং মার্চ করত।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদকে দেশের সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। বিরোধী দলকেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্পকারখানা, শিক্ষা ও ব্যাংকিং খাতসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিগত সরকারের কারণে দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক প্রভাব ছিল। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এসব সমস্যাকে অজুহাত না বানিয়ে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা বেড়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ায় তেল-গ্যাস আমদানিতে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়।
এর পাশাপাশি দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সেটি বিকল হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহের সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিরোধী দলের লং মার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে তাদের অযথা উত্তেজিত করা সমীচীন নয়। গাড়ির লং মার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে লং মার্চের আয়োজন করত।
তিনি বলেন, অতীতে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার নামে কুইক রেন্টাল স্থাপন করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না করে রাষ্ট্রকে ঋণগ্রস্ত করা হয়েছিল। বর্তমান সংকটও স্থায়ী নয়। সরকার ইতোমধ্যে সংকট মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশকে স্বাবলম্বী উৎপাদক রাষ্ট্রে পরিণত করার বড় পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এ সময় বিএনপির অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও সাফল্যের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই সংকট থেকে দেশকে বের করে এনেছে। অতীতের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জাতিকে সমৃদ্ধ ও শান্তিময় ভবিষ্যৎ উপহার দিতে কাজ করবে।
সমাপনী বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দুই বছর আগের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের স্বপ্ন পূরণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।








