এআইয়ের ছোঁয়ায় ফিরছে আশির দশকের স্মৃতি

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
এআইয়ের ছোঁয়ায় ফিরছে আশির দশকের স্মৃতি

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি ছবি দেখলে মনে হতে পারে, সেটি তোলা হয়েছিল চার দশক আগে। আশির দশকের পোশাক, চুলের ধরন, পুরোনো দিনের রাস্তা, ফিকে রঙ আর ফিল্ম ক্যামেরার আবহ—সবই যেন সেই সময়ের বাস্তব স্মৃতি। অথচ ছবিটি বাস্তবে কখনো তোলা হয়নি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে তৈরি হয়েছে সেটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে এমন ছবির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে ফেসবুকে নিজেদের ছবি ব্যবহার করে আশির দশকের পরিবেশ তৈরি করে প্রোফাইল ছবি ও বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন অনেকে। কেউ নিজেকে দেখাচ্ছেন সেই সময়ের তরুণ হিসেবে, আবার কেউ পুরোনো রাস্তা, বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এমন দৃশ্য তৈরি করছেন, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

প্রযুক্তির দৃষ্টিতে এগুলো এআই-নির্মিত ছবি হলেও ব্যবহারকারীদের কাছে বিষয়টি অনেকটা হারিয়ে যাওয়া সময়কে নতুন করে দেখার মতো। আশির দশকের প্রতি মানুষের যে নস্টালজিয়া, এআই যেন সেটিকেই নতুনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছে।

কেন আশির দশক?

আশির দশক অনেকের কাছে ক্যাসেট, ভিসিআর, ফিল্ম ক্যামেরা, রঙিন পোশাক, বড় চুল, সিনেমার পোস্টার, পাড়ার দোকান আর দীর্ঘ আড্ডার স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। সে সময় প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত থাকলেও পোশাক, স্থাপনা ও জীবনযাপনের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য ছিল আলাদা।

বর্তমানের ঝকঝকে ডিজিটাল ছবির তুলনায় পুরোনো ছবির দানাদার ভাব, আলো-ছায়ার তারতম্য ও কিছুটা বিবর্ণ রঙ এখন নতুন করে আকর্ষণ তৈরি করছে। এআই এসব বৈশিষ্ট্য অনুকরণ করে আধুনিক ছবিকে সহজেই পুরোনো দিনের ছবির মতো রূপ দিতে পারে।

এই প্রবণতার সবচেয়ে interesting দিক হলো, আশির দশকে বেড়ে ওঠা মানুষের পাশাপাশি ওই সময়ের অভিজ্ঞতা নেই এমন তরুণরাও এতে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে এখানে শুধু বাস্তব স্মৃতি নয়, কল্পিত স্মৃতিও ভূমিকা রাখছে।

কীভাবে তৈরি হয় এআইয়ের ‘পুরোনো’ ছবি?

এ ধরনের ছবি তৈরির জন্য এআইকে একটি ছবি ও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিতে হয়। যেমন—আশির দশকের পোশাক, পুরোনো ফিল্ম ক্যামেরার আবহ, সেই সময়ের রাস্তা, ঘরের সাজ, আলো ও রঙের ব্যবহার।

এরপর এআই মূল ছবির মানুষের মুখাবয়ব ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে পোশাক, পরিবেশ ও আশপাশের দৃশ্য নতুনভাবে তৈরি করে। ফলে এমন একটি দৃশ্য বানানো সম্ভব হয়, যেখানে একজন মানুষকে এমন সময় ও পরিবেশে দেখানো যায়, যেখানে তিনি বাস্তবে কখনো ছিলেন না।

এ কারণে বিষয়টিকে অনেকটা ‘ডিজিটাল সময়ভ্রমণ’ও বলা যায়।

ছবি কি এখন আর প্রমাণ নয়?

একসময় কোনো ঘটনা বা স্থানের দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবে ছবির গুরুত্ব ছিল অনেক। কিন্তু জেনারেটিভ এআই সেই ধারণায় বড় পরিবর্তন আনছে। এখন এমন ছবি তৈরি করা সম্ভব, যেখানে দেখানো ব্যক্তি ঘটনাস্থলে কখনো ছিলেন না, এমনকি ঘটনাটিও বাস্তবে ঘটেনি।

ছবিটি এতটাই বাস্তবসম্মত হতে পারে যে সাধারণ চোখে দেখে সেটিকে কৃত্রিম বলে শনাক্ত করা কঠিন। ফলে কোনো ছবি দেখার পাশাপাশি সেটি সত্যিই বাস্তব কি না—সেই প্রশ্নও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এই বাস্তবতায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্ত ও চিহ্নিত করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। মেটা তাদের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডসে এআই-তৈরি ছবি শনাক্ত হলে ‘AI Info’ লেবেল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই নতুন যুগে ছবির সৌন্দর্যের পাশাপাশি তার সত্যতাও যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে।