হস্তান্তর হলেই উদ্বোধন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ শিশুপার্কের

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
হস্তান্তর হলেই উদ্বোধন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ শিশুপার্কের

সূত্রঃ বিডি মেইল

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি


কুড়িগ্রামে শিশুদের বিনোদন ও মানসিক বিকাশের জন্য নির্মাণাধীন জেলা পরিষদ শিশুপার্কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের আবেদন করলেই পার্কটি পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত উদ্বোধন করে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ।

কুড়িগ্রাম শহরে দীর্ঘদিন ধরেই শিশুদের জন্য মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্রের অভাব রয়েছে। শিশুদের খেলাধুলা, বিনোদন ও মানসিক বিকাশের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে শহরের ডায়াবেটিস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় জেলা পরিষদের নিজস্ব প্রায় ৭৩ শতাংশ জমিতে পার্কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। উদ্যোগটি শুরু থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২ কোটি ৮৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বর্তমানে অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পুরো নির্মাণকাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।

আধুনিক ও নান্দনিক নকশায় নির্মিত পার্কটিতে শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাইড ও বিনোদন ব্যবস্থা। এর মধ্যে রয়েছে সুইং চেয়ার, মিনি ইলেকট্রিক ট্রেন, অ্যাডভেঞ্চার কার, মেরি-গো-রাউন্ড, জেড কোস্টার, ওয়ান্ডার হুইল, বাউন্সিং রাইড ও হাতে চালিত রকার। পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলার জন্য থাকছে আলাদা মাঠ।

পার্কের চারপাশে বসানো হয়েছে সোলার স্ট্রিট লাইট। অভ্যন্তরীণ রাস্তা, আধুনিক প্রবেশপথ ও বিভিন্ন নান্দনিক স্থাপনাও রয়েছে। দেয়ালজুড়ে শিশুদের উপযোগী ছবি ও স্লোগান আঁকা হয়েছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই পার্কটির সৌন্দর্য স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

হস্তান্তরের আবেদন পেলেই পরিদর্শন

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এখনো পার্কটি হস্তান্তরের আবেদন পাওয়া যায়নি। আবেদন পাওয়ার পর নির্মাণকাজ ও এর গুণগত মান যাচাই করতে পরিদর্শন করা হবে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি পরিদর্শন দল গঠন করা হয়েছে। পার্কটির সার্বিক অবস্থা যাচাই করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে সব কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পার্কটি উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান তিনি। পার্কটি চালু হলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৩০ অক্টোবরের আগেই হস্তান্তরের আশা

নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. নুরুজ্জামান বলেন, শিশুপার্কের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। এখনো হস্তান্তরের আবেদন করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে পার্কটি হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, কুড়িগ্রাম শহরে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য কোনো শিশুপার্ক নেই। শিশুদের বিনোদনের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পার্কটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের আবেদন করার পর এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত পরিদর্শন দল প্রতিবেদন দেবে। পরিদর্শনে সবকিছু সন্তোষজনক পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত পার্কটি কুড়িগ্রামবাসীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পার্কটির উদ্বোধন চান। একই সঙ্গে পার্ক চালুর পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থা সচল রাখার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।