ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায়, এনসিপি নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায়, এনসিপি নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

সূত্রঃ সংগৃহীত

নেত্রকোনা প্রতিনিধি


নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে টাকা নেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া আক্তারের (২২) বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।


মঙ্গলবার রাতে পৌর শহরের বলাইগুয়া এলাকার বাসিন্দা প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন।


এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা সাদিয়া আক্তারকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।


সাদিয়া আক্তার সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং এনসিপির নেত্রকোনা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। শহরের কুড়পাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন।


স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাদিয়ার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেলে কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।


মামলার বাদী প্রিয়া আক্তার বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমিসহ পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছে সাদিয়া। গতকাল বিকেলে আরেকজনের কাছ থেকে টাকা নিতে এলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে। সে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমি বিচার পাওয়ার জন্য মামলা করেছি।’


এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, সে চক্রান্তের শিকার। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রও হতে পারে। তবে সে কোনো সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিয়া আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


ওসি আরও বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া আক্তার কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।