মরা শোলমারীতে বিপর্যস্ত খুলনার কৃষি-জনজীবন
সূত্রঃ বিডি মেইল
তারিকুজ্জামান মোল্লা, খুলনা ব্যুরো
একসময় খরস্রোতা শোলমারী নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে। পলি জমে নদী ভরাট হওয়া, অবৈধ দখল এবং অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে খুলনার বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীটি অনেকটা মরা খালে পরিণত হয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি, মৎস্য উৎপাদন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় প্রায় ১৫০ মিটার প্রশস্ত শোলমারীর অনেক অংশ এখন সংকুচিত হয়ে মাত্র ৩ থেকে ৪ মিটারে দাঁড়িয়েছে। ভাটার সময় কোথাও কোথাও হেঁটেই নদী পার হওয়া যায়। অথচ কয়েক দশক আগেও এই নদীতে নিয়মিত লঞ্চ চলাচল করত এবং নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘদিন নদীতে ড্রেজিং ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। নদী ও সংযুক্ত খালগুলোর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাওয়ায় আমন-বোরো ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, নদী ও সংযুক্ত খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বোরো চাষের জমির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩৫ হেক্টর কমেছে। অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় পেঁপে, মরিচ ও চুইঝালের মতো লাভজনক ফসলও নষ্ট হচ্ছে। জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
সংকট মোকাবিলায় শোলমারী থেকে রামদিয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (পুর) মো. আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে শুধু চার কিলোমিটার নদী খনন করে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল্লাহ ইউসুফ আল হারুন জামানের মতে, নামমাত্র খনন করে শোলমারীর আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে খননের পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দূষণ বন্ধ এবং পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্লুইস গেটের বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এখন শোলমারী থেকে রামদিয়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার খনন প্রকল্প কতটা সুফল বয়ে আনে, সেটিই দেখার বিষয়। কারণ খননের পর আবার নদীতে পলি জমে ভরাট হলে কিংবা পানিপ্রবাহের পথে দখল ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা থেকে গেলে এই উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।








