হাঁস চুরি করে ফুটবল কেনার চেষ্টা, তিন কিশোরকে বল দিলেন ইউএনও

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
হাঁস চুরি করে ফুটবল কেনার চেষ্টা, তিন কিশোরকে বল দিলেন ইউএনও

সূত্রঃ বিডি মেইল

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি

ফুটবল কেনার টাকা জোগাড় করতে পাশের বাড়ির হাঁস চুরি করেছিল কুতুবদিয়ার তিন কিশোর। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শাস্তির বদলে তাদের ভুল বুঝিয়ে হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি নতুন ফুটবল। মানবিক এ উদ্যোগ নিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান।

তিন কিশোর হলো উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের তেলিয়াকাটা এলাকার মৎস্য শ্রমিক মামুনের ছেলে শাহনেক (১৩), মৎস্য শ্রমিক মিজানের ছেলে মিনহাজ (১২) এবং দিনমজুর খোরশেদ আলমের ছেলে মুজাহিদ (১১)। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিজেদের একটি ফুটবল কেনার সামর্থ্য ছিল না তাদের। অন্যদের মাঠে ফুটবল খেলতে দেখে তাদেরও খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন জাগত।

সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই তারা পাশের বাড়ি থেকে হাঁস চুরি করে। পরে হাঁসগুলো বিক্রির জন্য ধূরুং বাজারে নিয়ে গেলেও বিক্রির আগেই বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। ঘটনাটি এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবুল কাশেমের। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও মো. মিজানুর রহমানকে বিষয়টি জানান।

তিন কিশোরের সঙ্গে কথা বলে ইউএনও জানতে পারেন, ফুটবল কেনার টাকা সংগ্রহ করাই ছিল হাঁস চুরির পেছনে তাদের উদ্দেশ্য। তাদের অভিভাবকেরা দিনমজুর ও মৎস্য শ্রমিক হওয়ায় সংসারের অভাবের কারণে সন্তানদের খেলাধুলার সামগ্রী কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই।

ইউএনও তিন কিশোরকে বুঝিয়ে বলেন, অন্যের জিনিস নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্বপ্ন পূরণ করতে হলে সৎ ও সঠিক পথেই এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে তাদের ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য সতর্ক করেন।

এরপর বুধবার বিকেলে অফিসার্স ক্লাবে তিন কিশোরের হাতে একটি নতুন ফুটবল তুলে দেন ইউএনও। ফুটবল হাতে পেয়ে তাদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। ভুল কাজের পরিবর্তে এবার মাঠে গিয়ে নিয়মিত ফুটবল খেলার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ফেরে তারা।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুসলিম উদ্দিন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবুল কাশেম, ক্রীড়া সংগঠক এহাছান মোহাম্মদ ছেটন ও মোহাম্মদ মুবিন উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর ধূরুং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইমরুল ফারুক বলেন, ১২-১৩ বছরের কিশোরদের ভুলকে শুধু অপরাধ হিসেবে দেখলে হবে না। তাদের পারিবারিক বাস্তবতা, স্বপ্ন ও বেড়ে ওঠার পরিবেশও বিবেচনায় নিতে হবে। শাসনের পাশাপাশি ভালোবাসা, শিক্ষা ও সঠিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবুল কাশেম বলেন, শাহনেক, মিনহাজ ও মুজাহিদের ঘটনা শুধু হাঁস চুরি কিংবা ফুটবল পাওয়ার গল্প নয়। এটি অভাবের মধ্যেও স্বপ্ন দেখা তিন কিশোরকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে সঠিক পথে এগিয়ে দেওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন ফুটবল হাতে এই তিন কিশোর নিয়মিত খেলাধুলায় যুক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাবে।