কিশোরগঞ্জে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ, ফের আলোচনায় গচিহাটার মোখলেছ
সংগৃহীত
মোঃ মাহফুজুল হক, জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছেন কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা রেলস্টেশন এলাকার দোকানি মোখলেছ ভুইয়া। এর আগে ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে র্যাবের হাতে আটক হয়েছিলেন তিনি। পুরোনো ঘটনার পর নতুন করে একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় যাত্রীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মোখলেছ ভুইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর এগারোসিন্ধুর প্রভাতী ও এগারোসিন্ধুর গোধূলি ট্রেনের পাঁচটি টিকিট চাওয়া হলে তিনি টিকিট রয়েছে বলে জানান। প্রতিটি টিকিটের দাম ৪৫০ টাকা হিসেবে পাঁচটির জন্য মোট ২ হাজার ২৫০ টাকা দাবি করেন তিনি।
মোখলেছ জানান, বিকাশে টাকা পাঠালে হোয়াটসঅ্যাপে টিকিট পাঠিয়ে দেবেন। পরে সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন তিনি। এ সময় টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাবও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মোখলেছের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আগেও আটক হয়েছিলেন মোখলেছ
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের একটি দল রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। সে সময় অনলাইন ও রেলওয়ের কাউন্টার থেকে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করে মজুত এবং পরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে মোখলেছকে আটক করা হয়েছিল।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মুক্তি পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আবারও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। মোখলেছ কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের সহশ্রাম এলাকার কাজল ভুইয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গচিহাটা রেলস্টেশন এলাকায় একটি মুদিদোকান পরিচালনা করছেন।
টিকিট না পেয়ে বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা
স্থানীয় একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট কাটতে গেলে কাঙ্ক্ষিত আসন পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, কাউন্টারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে হলে শেষ পর্যন্ত বিকল্প উপায়ে টিকিট খুঁজতে হয়। এ সুযোগে কেউ কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের নোয়ার গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, “ঢাকায় যাওয়ার জন্য কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট না পেয়ে মোখলেছ ভুইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি টিকিট রয়েছে বলে জানান এবং প্রতিটি টিকিটের দাম ৪৫০ টাকা দাবি করেন। জরুরি প্রয়োজন থাকায় বেশি টাকা দিয়ে টিকিট নিয়েছি।”
নিয়মিত রেলযাত্রী ও ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটতে গেলে অনেক সময় টিকিট পাওয়া যায় না। কাউন্টারেও দীর্ঘ অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরতে হয়। অথচ পরে পরিচিতদের মাধ্যমে বেশি টাকা দিলে টিকিট পাওয়া যায়।
আরেক যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাওয়ার দরকার হলে অনেকে বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে টিকিট কেনেন। এতে সাধারণ যাত্রীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নির্ধারিত মূল্যে টিকিট পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
যাত্রীদের দাবি, অনলাইনে টিকিটের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাউন্টারে টিকিট বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে হবে। টিকিট মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে যা বলছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ
গচিহাটা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার আরিফ বলেন, “আমি এসব কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত নই। তার সঙ্গে কথাবার্তাও বলি না। ইতোমধ্যে আমি মোখলেছ ভুইয়ার বিষয়ে অবগত হয়েছি। কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে জিআরপি থানাকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। আবারও জানাব।”
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, “মোখলেছের বিষয়টি আমরা ইতোপূর্বে বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি। তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, অভিযানও চলছে। মোখলেছ স্টেশনমাস্টারের কক্ষের পাশে রেলওয়ের একটি স্টল লিজ নিয়ে দোকান পরিচালনা করছেন। কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এমকে/বিএম২৪








