কুড়িগ্রামে ‘বাঁধন’-এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
কুড়িগ্রামে ‘বাঁধন’-এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সংগৃহীত

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি


‘উনত্রিশের আহ্বান, রক্তদানে বাঁচুক প্রাণ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’-এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে সংগঠনটি ৩০ বছরে পদার্পণ করেছে।


রোববার (২৫ অক্টোবর) বাঁধন, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ইউনিট ও রংপুর জোনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ, পুরস্কার বিতরণ ও তবারক বিতরণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাইফুর রহমান সরকার। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁধনের উপদেষ্টা মো. রাশেদুল ইসলাম, তাহসিনুর রহমান তমাল, আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্যরা।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি বাঁধন সরকার। সঞ্চালনা করেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ইউনিটের সহসভাপতি জিহাদ হোসাইন। এ সময় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন মিয়াসহ অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. সাইফুর রহমান সরকার বলেন, বাঁধন একটি অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটির সদস্যরা মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে দিন-রাত, ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিনামূল্যে রক্ত সরবরাহ করেন। তাদের এই মহৎ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হয়ে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে কাজ করা উচিত।


আমন্ত্রিত অতিথি তাহসিনুর রহমান তমাল বলেন, “এক ব্যাগ রক্ত একটি জীবন, একঝাঁক নিবেদিত প্রাণ একটি বাঁধন।” একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করাই সংগঠনের মূল শক্তি। বাঁধনের সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের রক্তের গ্রুপ জানবে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসবে।


সভাপতির বক্তব্যে বাঁধন সরকার বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি সব ধরনের মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মানবিক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করা হয়। রক্তদানের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।


আলোচনা সভায় সংগঠনের ২৯ বছরের পথচলা ও কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। ১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল থেকে যাত্রা শুরু করে ‘বাঁধন’। বর্তমানে দেশের ৬১টি জেলায় ৯৪টি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৬টি জোন, ১৫০টি ইউনিট ও ১৭টি পরিবারের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


সংগঠনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাঁধন ১২ লাখ ২৭ হাজার ৮৬৫ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫১০ জনের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করেছে সংগঠনটি।


এমকে/বিএম২৪