সিসিটিভিতে সন্দেহভাজন শনাক্ত, তিন দিনেও উদ্ধার হয়নি জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরা
সংগৃহীত
রাজশাহী প্রতিনিধি
নাটোর রেলস্টেশন থেকে খোয়া যাওয়া জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও ব্যাগ তিন দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এক সন্দেহভাজন যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ১৮ বছর বয়সী জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের মালামাল খোয়া যাওয়ার পর সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করেন তিনি। পরে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকায় ফিরে যান ওই পর্যটক।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে এ বিষয়ে পাকশি ও সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। পাকশি রেলওয়ে পুলিশ জানায়, প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে সান্তাহার জিআরপি থানা ঘটনাটির তদন্ত করছে। মালামাল উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
সান্তাহার জিআরপি থানার ইনচার্জ মো. দুলাল উদ্দিন জানান, ঘটনার তিন দিন পরও তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
তিনি বলেন, নাটোর রেলস্টেশনের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এক সন্দেহভাজন যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটেজে দেখা যায়, হলুদ রঙের কটি পরা ওই যুবক কৌশলে ক্রিলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। পরে ক্রিল এটিএম বুথে টাকা তুলতে গেলে সুযোগ বুঝে নিজের কটির ভেতরে ব্যাগটি লুকিয়ে দ্রুত স্টেশন ত্যাগ করেন তিনি।
বর্তমানে ওই যুবকের ছবি ধরে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে মালামাল উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধার করে তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ তথ্যকে গুজব বলে জানিয়েছেন সান্তাহার জিআরপি থানার ইনচার্জ মো. দুলাল উদ্দিন।
তিনি জানান, খোয়া যাওয়া মালামাল এখনো উদ্ধার হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদেশি নাগরিকের মালামাল উদ্ধারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সান্তাহার ও পাকশি রেলওয়ে পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ক্রিল ল্যান্ডারের ল্যাপটপের আইক্লাউড লোকেশন ট্র্যাক করে প্রথমে নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে জংশন, পরে নওগাঁ এবং এরপর রাজশাহীর রেলগেট ও মহিলা কলেজের আশপাশে অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় রেলওয়ে পুলিশ ও ডিবি।
তবে ল্যাপটপে কোনো সিম কার্ড না থাকায় পরবর্তী সময়ে এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং পর্যটকের খোয়া যাওয়া মালামাল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে একাধিক বিশেষ দল কাজ করছে। দ্রুত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে
বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এমকে/বিএম২৪









