চীনের সঙ্গে ঋণ নয়, যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
চীনের সঙ্গে ঋণ নয়, যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে যৌথ ও সরাসরি বিনিয়োগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে অর্থায়ন কাঠামো পরিবর্তন এবং অংশীদারত্বভিত্তিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্থায়নের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে সার্বভৌম ঋণসহ বিভিন্ন ঋণভিত্তিক অর্থায়নের ওপর যে নির্ভরতা রয়েছে, তা কমিয়ে ইকুইটি বা মালিকানাভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।


তিনি বলেন, যৌথ বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঋণ থেকে সরে এসে ধীরে ধীরে বিনিয়োগের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে সরকার।


সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, শুধু ঋণ নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে এমন অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পের অংশীদার হবে। এতে ভবিষ্যতে সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে।


তবে কোন প্রকল্পে এ ধরনের বিনিয়োগ করা হবে, অর্থায়নের অনুপাত কী হবে কিংবা কবে থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে—সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরেক বৈঠকে বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অনুদানভিত্তিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।


আমির খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে। দেশটি থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশের জন্য আর্থিক সহায়তা ও অনুদানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


বাংলাদেশের আমদানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তাঁরা একমত হয়েছেন বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তবে সহায়তার পরিমাণ ও ধরন সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।


এ ছাড়া জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, কৃষি খাতে কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ, প্রকল্প বা অর্থায়নের ধরন সম্পর্কে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।


এমকে/বিএম২৪