সংবিধান পর্যালোচনায় নতুন উদ্যোগ, গুরুত্ব পাচ্ছে জুলাই সনদ

প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
সংবিধান পর্যালোচনায় নতুন উদ্যোগ, গুরুত্ব পাচ্ছে জুলাই সনদ

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


সংবিধানের সার্বিক সামঞ্জস্য ও কাঠামো বজায় রাখতে পুরো সংবিধান পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় দেশের ‘বেসিক স্ট্রাকচার থিওরি’ বা সংবিধানের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ২০২৫ সালের জুলাই সনদের মূল ভাবধারা ও চেতনার ভিত্তিতে।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।


আইনমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সর্বসম্মত প্রত্যাশাকে ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের কাজ শুধু সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।


তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জুলাই সনদ প্রণয়নে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সনদের ধারাগুলোকে সাংবিধানিক ভাষায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


১৭ সদস্যের এই কমিটির গঠন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এতে বিএনপিসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যরা রয়েছেন। জুনায়েদ সাকি, ভিপি নূর ও আন্দালিব রহমান পার্থও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি সদস্যপদ এখনো শূন্য থাকলেও সরকার তাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বিরোধী দল তালিকা জমা দিলেই তাদের কমিটিতে যুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।


তিনি বলেন, বিরোধী দল সরাসরি বৈঠকে অংশ না নিলেও জুলাই সনদের মধ্যে তাদের অধিকাংশ মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। আইনগতভাবে এটিকে ‘হারমোনিয়াস ইন্টারপ্রিটেশন’ বা অনুচ্ছেদগুলোর সুষম ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


ভারতের ‘কেশবসানন্দ ভারতী’ মামলার উদাহরণ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেই সংশোধনী আনা হবে। কোনো রাজনৈতিক বা আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্তের কারণে মূল সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার সুযোগ নেই।


কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংবিধান কোনো নির্দিষ্ট সরকারের জন্য নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি রাষ্ট্রীয় দলিল। তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধানের গুরুত্ব অনুধাবনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন হয়েছে। তাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।


তিনি জাতীয় স্বার্থে সংবিধান সংস্কারের এই উদ্যোগে বিরোধী দলসহ সব পক্ষকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের মাধ্যমে সংবিধান পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, জুলাই সনদের নীতিমালা অনুসরণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও আধুনিক বাংলাদেশের উপযোগী সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করা হবে।


এমকে/বিএম২৪