সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।


রিমান্ডে নেওয়া দুই আসামি হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।


সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত শুনানি শেষে তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক (নি.) শেখ বশির আহমেদ আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।


বিকেল ৫টার দিকে আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ


রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা রাজধানীর পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha # 1’ ও ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


আবেদনে আরও বলা হয়, ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।


তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে আসামিরা ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন এবং পরে ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করেন। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


যে কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়


তদন্তের স্বার্থে পাঁচটি বিষয় সামনে রেখে আসামিদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—মামলার অন্য সহযোগীদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা, আসামিদের পরিচালিত অন্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের সন্ধান পাওয়া এবং মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন করা।


এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানাধীন ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে পল্লবী থানায় মামলা করা হয়।


তবে রিমান্ড আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।


এমকে/বিএম২৪